kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হাওরে নিষিদ্ধ জালের ফাঁদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাওরে নিষিদ্ধ জালের ফাঁদ

মৌলভীবাজারের বাইক্কাবিল, হাকালুকি, কাউয়াদিঘিসহ অন্যান্য হাওর ও নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে মাছ। এসব নিষিদ্ধ জালে মাছের সঙ্গে ধরা পড়ছে নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী। বিনা প্রয়োজনে এসব প্রাণীকে ডাঙ্গায় ওঠানোয় কিংবা হত্যা করায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এসব জলজ প্রাণী। এ ছাড়া পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছও নির্বিচারে ধরা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বর্ষাকালে হাওরে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মা ও পোনা মাছ ধরতে সক্রিয় থাকে একটি চক্র। ওই চক্রটি মাছের সঙ্গে জালে উঠে আসা সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কাছিম, শামুকসহ নানা জাতের জলজ প্রাণী ডাঙায় ফেলে হত্যা করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।

নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বছরজুড়ে পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মা মাছও নির্বিচারে ধরা হচ্ছে। হাওর তীর এলাকার হাটবাজারগুলোতে পোনা ও মা মাছ গোপনে দ্রুত কেনাবেচা সম্পন্ন হয়। বর্ষায় প্রতিদিনই রাতের আঁধারে হয় পোনা মাছ ধরা আর কেনাবেচা। এ সময় হাওরজুড়ে চলে রমরমা ব্যবসা।

অবাধে পোনা মাছ নিধনে মিঠা পানির মৎস্যভাণ্ডার এখন হুমকির মুখে।

জানা গেছে, গত দুই বছর অনাবৃষ্টির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ তেমন উৎপাদন না হলেও এ বছর বন্যার পানির জলাবদ্ধতায় কাঙ্ক্ষিত ডিম ছেড়েছে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ।

এ বছর মাছের পর্যাপ্ত উৎপাদনে বাড়তি প্রত্যাশা ছিল নদী ও হাওর তীরের মানুষের। কিন্তু তা ভেস্তে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনা সময়ে মাছ ধরতে হাওরের বিল সেচা হয়। আর গাঙ ও নদীর উজানে দেওয়া হয় বিষাক্ত ওষুধ। এতেও কমেছে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী।

মৌসুমে প্রতিদিনই হাওর থেকে তিন-চার মেট্রিক টন পোনা মাছ পাচার হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রচ্ছায়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব কাজ করেন।

বছরের পাঁচ মাস ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) চেয়ে কম মাপের শোল, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালীবাউশ, আইড়, বোয়ালসহ সব ধরনের পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি এবং বেড়জালসহ সাড়ে চার সেন্টিমিটারের কম ব্যাসার্ধের ফাঁকবিশিষ্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এ সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় এবং দারিদ্র্যের সুযোগকে কাজে লাগায় প্রভাবশালী চক্র।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য নিধনের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। লোকবল সংকট থাকায় অভিযান করতে বিলম্ব হয়। পোনা মাছ ও মা মাছ নিধনকারীদের তালিকা করে চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা