kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প

লাখো মানুষ পানিবন্দি

জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি।যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, তাই উপজেলা চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার ও অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি, ফয়সাল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লাখো মানুষ পানিবন্দি

দুই দিনের বৃষ্টিতে গোলাকান্দাইল নতুন বাজারের রাস্তাটি ডুবে গেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তার একই দশা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রূপগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও হাটবাজারে পানি ঢুকে পড়েছে, কিছু রাস্তায়ও হাঁটুপানি। বাঁধের ভেতরের কিছু এলাকায় অস্থায়ী বন্যায় রূপ নেওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এখানকার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম-কানুন না মেনে অপরিকল্পিতভাবে ক্যানেল ভরাট, অপরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থা, খাল দখল, ভবন ও বাড়িঘর নির্মাণের কারণেই এ জলাবদ্ধতা।

বিজ্ঞাপন

পানি নিষ্কাশনে যাত্রামুড়া ও বানিয়াদির পাম্প হাউসগুলো কোনো কাজে আসছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের মাসাব, বরপা বাগানবাড়ি, সুতালড়া, আড়িয়াবো, তেতলাব, কর্ণগোপ, মৈকুলী, মিয়াবাড়ী, ভায়েলা, পাঁচাইখা, মোগড়াকুল, পবনকুল, বরাব, খাদুন, যাত্রামুড়া, গোলাকান্দাইল, বিজয়নগর, বলাইখা, উত্তরপাড়া, মিয়াবাড়ি, নামাপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, ৫ নং ক্যানেল, রূপসী, গন্ধর্বপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় প্রায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্রণীর ভেতরে বসতি আর কারখানার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জলাবদ্ধতাও। বর্তমানে সেচ প্রকল্পে কৃষিজমিতে পানি সেচের তেমন ব্যবস্থা নেই। এসব কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি আর শিল্প-কারখানা। তাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতারা খালগুলো ভরাট করে মার্কেট, ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে সামান্য বর্ষণ হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও পানি সরাসরি ফেলার কারণে খালগুলোও ভরাট হয়ে গেছে।

একতা ব্লাড ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মহসিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গোলাকান্দাইল নতুন বাজার সড়ক ডুবে হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি ভেঙে এখানকার মানুষ চলাফেরা করছে। আমরা অনেকে দোকানপাট খুলতে পারছি না। ’ প্রশাসনের কাছে দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস ৫ নং ক্যানেল ও নতুনবাজার এলাকায়। এখানে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার হাজার হাজার মানুষ বসবাস করে। জলাবদ্ধতা ঠেকাতে আমরা বৃষ্টির আগেই পানি চলাচলের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করেছি। কিন্তু বাঁধের ভেতরের নিচু এলাকাগুলোতে উঁচু এলাকার পানি এসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল হক বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, তাই উপজেলা চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার ও অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ’



সাতদিনের সেরা