kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাবেক জামায়াত নেতা বিএনপির আহ্বায়ক

আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক জামায়াত নেতা বিএনপির আহ্বায়ক

সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুজিবর রহমান নান্টু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সদর উপজেলা বিএনপির ৩৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করেন।

কমিটিতে নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করার পাশাপাশি সদস্যসচিব করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম সেলিমকে। তা ছাড়া কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক সাতজন ও সদস্য করা হয়েছে ২৬ জনকে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যরাতে ফেসবুকে কমিটি প্রকাশের বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতারা। ফলে কমিটি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন বরিশাল জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিটি ঘোষণার বিষয়টি জানেন না কমিটি গঠনের প্রধান সমন্ব্বয়কারী নিজেই। তা ছাড়া পদ পাওয়া বেশির ভাগ নেতাই এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী ঘরানার সুবিধাভোগী কিছুু ব্যক্তিকে দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন খোদ কমিটিতে পদ পাওয়া নেতারা।

বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রধান সমন্ব্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না বলেন, ফেসবুকে কমিটি ঘোষণার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনাও করা হয়নি। পুরো বিষয়টি বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব করেছেন।

বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওবায়দুল হক চান বলেন, কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক নেতাদের সঙ্গে সমন্ব্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি করার। তবে বর্তমান জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা নেতারা সদর উপজেলা কমিটি করার বিষয়ে কোনো আলোচনাই করেননি। তাঁরা তাঁদের মতো করে কমিটি ঘোষণা করেছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সদ্যোঘোষিত কমিটির ১ নম্বর সদস্য ও চর্বারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, ‘জামায়াত নেতাকে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। আর নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্ব্বয়কারী হয়েছেন ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক। কমিটির সদস্যদের মধ্যে অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুতরাং এই কমিটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁরা এই কমিটি কখনোই মানবেন না। ’

রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘নুরুল আমিন এখনো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর পুরো পরিবার জামায়াতের রাজনীতি করে। অন্যদিকে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সালাম রাড়ি চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রধান সমন্ব্বয়কারী ছিলেন। তাঁকে তখন দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর পরও তাঁদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি আমরা মানি না। ’

রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মিন্টু জানান, ২০০৩ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নুরুল আমিন। ২০১১ সালের নির্বাচনেও তিনি ওই ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিএনপিতে আসেন নুরুল আমিন। এরপর অর্থ দিয়ে পদ কিনতে শুরু করেন। প্রথমে জেলা বিএনপির সদস্য হয়ে এখন সরাসরি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হয়ে গেছেন।

বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান নান্টু বলেন, ‘আমরা বিবেচনা করে কমিটি ঘোষণা করেছি। ’ ফেসবুক আইডিতে কমিটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই মিডিয়ায় কমিটি প্রকাশ করি না। যেটা ভালো মনে করেছি, সেটাই করেছি। ’

 



সাতদিনের সেরা