kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাশিয়া থেকে তেল আনলে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি করার কথা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাশিয়া থেকে তেল আনলে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি করার কথা নয়

সার, খাদ্য ও তেল আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সে কারণে ভিন্ন কোনো দেশ থেকেও বাংলাদেশ এসব আমদানি করতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোহে ডাব্লিউ ফার্নান্দেজের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ হিসেবে রাশিয়া বা অন্য উৎস থেকে তেল আমদানি করা হলে তাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। ’

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি উপদেষ্টা তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এমন অস্থিতিশীল যে সামনে দেশে কবে কত টাকা দাম কমবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। ’ রাশিয়া থেকে তেল এলেই রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমনটি তিনি মনে করেন না। উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানির দাম কমে গেলে আমাদের আর কোনো সমস্যাই থাকত না। এখন যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে। এখন আমাদের দেশে ২০০৯ সালের তুলনায় চার গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে থেকেও আমরা এটা করতে পেরেছি এটা কম কথা নয়।

তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ‘আমরা আইএমএফের মালিকও। কারণ আমরা আইএমএফের শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার। কাজেই আমরা আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারি। ’

উপদেষ্টা বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছু করছে। জ্বালানি সংকট সমাধানে আমরা দেশীয় জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে গত পাঁচ বছরে ৩৪টি কূপ খনন করেছি। গত বছরই আমরা চারটি কূপ খনন করেছি। বাংলাদেশে অনুসন্ধান হয়নি এই যে কথা বলা হয়, এটা ঠিক না। বঙ্গবন্ধুর কিনে নেওয়া পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের পর বিবিয়ানা ও জালালাবাদ ছাড়া দেশে আবিষ্কৃত ১৯টি গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ পাঁচ টিসিএফ। এগুলো অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্যাসক্ষেত্র। অনুসন্ধান ঠিকই করা হয়েছে। স্থলভাগে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে। আর সমুদ্রে বিদেশি কম্পানিকে আহবান জানানো হবে। ’

দাম বাড়ানোর সময়ে শুল্ক কমানো হলে এখন লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর প্রয়োজন হতো না—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি শুল্ককর উঠিয়ে দিলে জ্বালানি তেলের দাম কমবে। কিন্তু এনবিআর রাজস্ব কোথায় পাবে। রাজস্ব না পেলে উন্নয়ন কিভাবে হবে। শুল্ক কমিয়ে দাম কমানোটা লাভজনক নাও হতে পারে। ’ তিনি বলেন, ‘মাত্র ৪ শতাংশ দাম কমার প্রভাব অনুভব করা কঠিন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে মূলত আমদানি ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার কারণে। ’

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল রিজার্ভের ক্যাপাসিটি ৪৫ দিনের। টার্গেট ৬০ দিনের। এ নিয়ে কাজ চলছে। আর বাংলাদেশের তেলের রিফাইনারি ক্যাপাসিটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন, এটা ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। ’

পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাশিয়া থেকে নমুনা হিসেবে পাঠানো ৫০ লিটার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরীক্ষা করে কী পাওয়া গেল—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রাশিয়া থেকে নমুনা হিসেবে আসা জ্বালানি তেল এখনো পরীক্ষা করা হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্ভব নয়। ওই বৈঠকের এক সপ্তাহ না পেরোতেই জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা আমদানি সম্ভব বলে জানালেন।



সাতদিনের সেরা