kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুর্ঘটনার পর ‘সিরিয়াস’ বিআরটি কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্ঘটনার পর ‘সিরিয়াস’ বিআরটি কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর সড়ক নিরাপত্তায় ‘সিরিয়াস’ হয়েছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিআরটি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আর দুর্ঘটনা ঘটবে না। একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাদের পর্যায় পর্যন্ত সবাই এখন খুব সিরিয়াস। ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল চীন থেকে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের সঙ্গে সভা হয়েছে। তারা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে বিআরটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পুরো করিডর পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বিআরটির এমডি সফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা তাঁদের (ঠিকাদার) চেপে ধরেছি। তাঁরাও কাজের কিছুটা অগ্রগতি ঘটাচ্ছেন। আশা করছি, চাপটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, সে ক্ষেত্রে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দুর্ঘটনার আগে তাঁদের কাছে আমরা শতভাগ পারফরম্যান্স পাইনি। ’

প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বিআরটি কম্পানির এমডি জানান, সাড়ে ২০ কিলোমিটার পথের সার্বিক অগ্রগতি ৭৯.২৪ শতাংশ। পূর্তকাজ করছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৬ কিলোমিটারের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের গেজুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি)। এদের অগ্রগতি ৮২.০৯ শতাংশ। আর সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) অধীনে বিআরটির সাড়ে চার কিলোমিটারের উড়াল অংশের ঠিকাদারি পায় চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান জিয়াংশু প্রভিনশিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড। তাদের কাজের অগ্রগতি ৭২.৩৫ শতাংশ।

নিরাপত্তা ছাড়াই এত দিন কিভাবে কাজ করা হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কথা বলতে পারব না। ঠিকাদারকে বারবার আমরা সতর্ক করেছি, চিঠি দিয়েছি। কিন্তু আমরা কিছু সমস্যার মধ্যে থাকি। তাঁদের সঙ্গে কিছু সমঝোতা আমাদের করতে হচ্ছে কাজের স্বার্থে। ’

সফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ঠিকাদারের চাওয়া তহবিল আর লোকবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। নিরাপত্তা কর্মকর্তার ঘাটতি পূরণ করে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা সব বিষয়ে একমত হয়েছেন। যেসব পয়েন্টে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, সেখানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অনুমতি দিলে আবার কাজ শুরু হবে।

এদিকে বিআরটি প্রকল্প শুরুর দিকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এই করিডরে ইলেকট্রিক আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ দিকে। এখন বলা হচ্ছে, এখনই ইলেকট্রিক বাস চলার মতো সুবিধা তৈরি হবে না। তাই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রিক বাসের পরিবর্তে ডিজেলচালিত বাস দিয়েই বিআরটি করিডরে বাস সার্ভিস শুরু হবে। প্রথম দফায় ১৩৭টি ডিজেলচালিত বাস দিয়ে শুরু হবে। তবে পরবর্তী সময়ে ইলেকট্রিক বাসের ফ্যাসিলিটি তৈরি করার পর ইলেকট্রিক বাস নামানো হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিগগিরই ডিজেলচালিত বাস কেনার জন্য টেন্ডার হবে। এ ক্ষেত্রে বাসের স্পেসিফিকেশন ঠিক করে দেওয়া হবে—কী ধরনের বাস চলবে এখানে। সে ক্ষেত্রে ১২ মিটারের স্ট্যান্ডার্ড বাস কেনার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। টেন্ডার হওয়ার পর ছয় মাস লাগবে বাস আসতে।

২০১২ সালের ২০ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায় গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)। তখন এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের শেষ দিকে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২১ সালেও এই কাজ সমাপ্ত হয়নি। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। তবে নতুন নির্ধারিত সময় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) অর্থায়ন করছে।



সাতদিনের সেরা