kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পর্যটক টানতে সুন্দরবন ঘিরে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যটক টানতে সুন্দরবন ঘিরে উদ্যোগ

বিদেশি পর্যটক টানতে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন অঞ্চল ঘিরে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধসহ গোপালগঞ্জ থেকে বাগেরহাট ও খুলনা সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারসহ দেশের আরো চারটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে পর্যটনশিল্পের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পিত পদক্ষেপের অভাবে দর্শনীয় স্থানগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটাছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ জন্য কমিটির পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব শেষ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে পর্যটনশিল্পের বিকাশে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি এক্সক্লুসিভ জোনে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, বিদেশিদের জন্য আলাদা ট্যুরিস্ট জোন করা হচ্ছে। সেখানে বিনোদনের সব ব্যবস্থা থাকবে। উন্নতমানের হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং রেস্টুরেন্ট হবে। পাশাপাশি তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন ঘিরে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, টুঙ্গিপাড়ায় সমাধিসৌধ এলাকায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল মধুমতির পরিবেশ উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই হোটেলের পার্শ্ববর্তী বাঘিয়ারকুল নদী তীরবর্তী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্টিমারঘাটে ‘গ্রামীণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে টুঙ্গিপাড়ার পর্যটন উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাট ও মোংলায় পরিচালনার জন্য টুরিস্ট কোচ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পর্যটন করপোরেশনের হোটেল নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। মোংলায় হোটেল ‘পশুর’-এর আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ২০ একর জমির ওপর ‘সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন’ এবং মহেশখালী চ্যানেলের তীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা খুরুশকুলে ‘শেখ হাসিনা টাওয়ারসহ পর্যটন স্থাপন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

শেরপুর জেলার গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পর্যটন সেবা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিনাইগাতির রাংটিয়া ও জামালপুরের মেলান্দহে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।

বগুড়া ও রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাটোরের রাণীভবানী রাজবাড়িতে পর্যটন সেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে।

বাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে হোটেল-মোটেলের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। রাঙামাটিতে ঝুলন্ত সেতু আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা