kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দাওয়াই

নবজাতক কি খুব কাঁদে

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নবজাতক কি খুব কাঁদে

প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়ের একটি সাধারণ অবস্থা হলো কোলিক। তবে সাধারণত কোলিক বলতে ইনফ্যান্টাইল কোলিককে বোঝায়, যা বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। জন্মের প্রথম কয়েক মাসে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন কোলিক দ্বারা আক্রান্ত হয়। কোলিক হলো একটি অবস্থা, যেখানে শিশুরা পেটে ব্যথা বা অস্বস্তির জন্য খুব কাঁদে।

বিজ্ঞাপন

শিশু তিন দিনের বেশি কান্নাকাটি চালিয়ে যেতে পারে। যার ফলে কোলিককে নির্ণয় করা যায়। শিশুরা নিজেদের চাহিদা জানাতে কান্নাকাটি করে। যখন কান্নাকাটির জন্য ক্ষুধা, ঘুম, ক্লান্তি, গরম বা ঠাণ্ডা অথবা নোংরা ডায়াপারকে দায়ী করা যায় না, তখন ধরে নেওয়া হয় শিশুটি কোলিক আক্রমণের শিকার হয়েছে।

লক্ষণ

♦ অনিয়মিত ঘুম বা ঘুম ভেঙে যাওয়া

♦ অনিয়মিত খাবারের ধরন

♦ কান্নাকাটির জন্য রুটিনমাফিক খাবার খাওয়ানোয় বিঘ্ন ঘটা

♦ শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিকতার অনুভূতি, শক্ত মুষ্টি, বাঁকা পিঠ, পেটের পেশি আড়ষ্ট

♦ প্রতিদিন একই সময়ে শিশুর বিরক্তি ও অস্বস্তি প্রকাশ পাওয়া

♦ অনবরত কান্না

♦ অস্থিরতা

কারণ

যেকোনো শিশুর কোলিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। কোলিকের সম্ভাব্য কিছু কারণ হলো :

♦ মায়ের বুকের দুধে থাকা কিছু উপাদানের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া

♦ ল্যাকটোজে অসহিষ্ণুতা

♦ বদহজম

করণীয়

ডাক্তাররা সাধারণত কোলিক হওয়া শিশুর রোগ ধরার আগে তার কষ্টের অন্য কোনো সম্ভাব্য কারণ বাতিল করতে একটি সহজ পরীক্ষা করেন। কারণ কোলিক হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ না কোলিক বন্ধ হয়ে যায়—বেশির ভাগ চিকিত্সক ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা সন্দেহ হলে গরুর দুধ এড়াতে হবে।

খাবার পরে ঢেকুর তোলানো এবং প্রতিবার খাওয়ানোর পরে কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট শিশুকে লম্বা করে রাখতে হবে। প্যাসিফায়ার ব্যবহারও এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সিমেথিকোন ড্রপগুলো কখনো কখনো বাচ্চাদের আরাম দিতে পারে।

ইনফ্যান্টাইল কোলিক যেমন শিশুদের কষ্ট দেয়, তেমনি মা-বাবাদেরও খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. অদিতি সরকার

রেসিডেন্ট চিকিত্সক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা



সাতদিনের সেরা