kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে

বাসদের সংহতি সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে

চা শ্রমিকদের সাত দফা মেনে নেওয়ার দাবিতে গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ করে বাসদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের ২৪১টি চা-বাগানের শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধিসহ ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য মালিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতারা।

নেতারা বলেছেন, চা-বাগানগুলোতে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির তোয়াক্কা করা হয় না। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধার অপ্রতুলতার দরুন শত শত বছর ধরে এই শ্রমিকরা তাঁদের পরিবার নিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন। এ থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই এই আন্দোলন।

বিজ্ঞাপন

দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন অর রশীদ, ৯ বাম সংগঠনের সমন্বয়ক ও নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাসদ ঢাকা মহানগরের নেতা আহসান হাবিব বুলবুল ও খালেকুজ্জামান লিপন। সভা পরিচালনা করেন বাসদ ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব জুলফিকার আলী।

সমাবেশে বজলুর রশীদ বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকরা শ্রীমঙ্গল ও ঢাকায় তিন দফা সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন; কিন্তু মালিকপক্ষ ও সরকার নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করছে। শ্রমিকদের দাবি, মজুরি ৩০০ টাকা করতে হবে। বাগানের শ্রমিকদের ছুটি বৈষম্য দূর করতে হবে। রেশনের মান ও পরিমাণ বাড়াতে হবে। সন্তানদের জন্য প্রতিটি বাগানে প্রাথমিক স্কুল ও প্রতিটি ভ্যালিতে উচ্চ বিদ্যালয় করতে হবে। প্রতিটি বাগানে মানসম্মত চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বজলুর রশীদ বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালীন শ্রমিকদের জন্য রেশন বন্ধ করা যাবে না। অন্যথায় অন্যান্য বাম প্রগতিশীল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বাসদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী চা শ্রমিকদের জন্য লঙ্গরখানা খুলে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। এরই মধ্যে খবর এসেছে, ফিনলে চা-বাগানে শ্রমিকদের নামে চারটি মামলা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, রেশন বন্ধ করে, মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ’

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, চা-বাগানগুলো একরপ্রতি নামমাত্র মূল্যে মাত্র পাঁচ টাকায় লিজ নেওয়া হয়। তার পরও নাকি মালিকের মুনাফা হয় না? মালিকরা শ্রমিকদের দাবি না মানলে সরকার বিনা ক্ষতিপূরণে বাগানগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করে নিক এবং সরকারিভাবে সেগুলা পরিচালনা করা হোক। নেতারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য চা শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সব বাম-প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক জনগণকে চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।



সাতদিনের সেরা