kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ডিম-মুরগির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী ‘মধ্যস্বত্বভোগী’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিম-মুরগির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী ‘মধ্যস্বত্বভোগী’

সাম্প্রতিক সময়ে খোলাবাজারে ডিম ও মুরগির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করেছে পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বলছে, অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে চাহিদা ও জোগানের তারতম্য এবং সুযোগ সন্ধানী মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা লোটার অপপ্রয়াস। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিপিআইসিসির সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তৃণমূল খামারিদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

 

১৬ আগস্ট বিপিআইসিসির জরুরি বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ আগস্ট পাইকারি বাজারে মুরগির কেজিপ্রতি দর ছিল ১৩৬ টাকা। বাদামি ডিমের প্রতিটির দাম ৯.১০ ও সাদা ডিমের ৮.৭০ টাকা ছিল। কিন্তু ওই দিন রাত ১২টার পর থেকে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের নতুন বর্ধিত দর কার্যকর হওয়ার ঘোষণা এলে পরদিন অর্থাৎ ৭ আগস্ট থেকে বাস-ট্রাক-পিকআপসহ পরিবহনসংকট দেখা দেয়। অনেক মালিক পরিবহন বন্ধ করে রাখেন, অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। যেহেতু ডিম ও মুরগির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের জোগান দেন গ্রামীণ তৃণমূল খামারিরা, তাই পরিবহনসংকটে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে যায়, বাড়ে দাম। ১৩ ও ১৪ আগস্ট মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। পাইকারি পর্যায়ে বাদামি ডিম ১০.৯০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির কেজি দর ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় ওঠে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম ১৩.৭৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ওঠে। এ দাম বাড়ায় সাধারণ খামারিদের হাত নেই। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এলে ১৫ আগস্ট থেকে দর ফের কমতে শুরু করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগির পাইকারি দর প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা এবং প্রতি ১০০ বাদামি ডিমের দর ১৩০ টাকা কমে ৯৬০ টাকায় (প্রতিটি ৯.৬০ টাকা) ও সাদা ডিম ১৪০ টাকা হ্রাস পেয়ে ৯৫০ টাকায় (প্রতিটি ৯.৫০ টাকা) বিক্রি হয়।

বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বর্তমানে এক কেজির ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে খামারির খরচ পড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং প্রতিটি ডিমে খরচ ন্যূনতম ৯.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরির কাঁচামালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন, পণ্য আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত জাহাজভাড়া, লোড শেডিং ইত্যাদি কারণে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, খামারিরা লোকসান গুনলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা অনায্য মুনাফা লুটছে। ফলে খামারি ও ভোক্তা উভয়েই প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি কাজী জাহিন হাসান বলেন, পোলট্রির সাপ্লাই সাইড দুর্বল হয়ে পড়ছে। কারণ লোকসানের ভয়ে অনেক খামারি এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এক দিন বয়সী সাদা ব্রয়লার বাচ্চার সাপ্তাহিক উৎপাদন যেখানে ছিল এক কোটি ৮০ লাখের ওপরে। বর্তমানে তা এক কোটি ৩০ থেকে ৩৫ লাখে নেমে এসেছে। ব্রিডার খামারগুলো লোকসানে বাচ্চা বিক্রি করার পরও খামারিরা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এফআইএবি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, কভিড মহামারির ধকল যখন কিছুটা সহনীয় হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরির কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। যেহেতু ফিড তৈরির অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ভুট্টা, সয়াবিনসহ বেশির ভাগ উপকরণই আমদানিনির্ভর, তাই কাঁচামালের দর বৃদ্ধি ছাড়াও জাহাজভাড়া ও ডলারের দরবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচে কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। খালেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোও রপ্তানিতে মাঝেমধ্যেই রাশ টেনে ধরছে। তাই নিজেদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে; ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাষি ও খামারিদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা