kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

লঞ্চে সন্তান প্রসব, আজীবন ভাড়া ফ্রি

প্রিন্স আওলাদ-১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লঞ্চে সন্তান প্রসব, আজীবন ভাড়া ফ্রি

নানীর কোলে নবজাতক। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে প্রিন্স আওলাদ-১০ নামের একটি লঞ্চের ডেকে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নবজাতকটি ভূমিষ্ঠ হয়। একই লঞ্চের যাত্রী এক ধাত্রীর সহায়তায় জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ইব্রাহিম। সন্তান জন্মদানকারী ঝুমুর আক্তার (২৫) বরিশাল নগরীর গড়িয়ারপার এলাকার বাসিন্দা মো. হারিসের স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

ঝুমুর আক্তার তাঁর স্বামীর সঙ্গে জামালপুরের কর্মস্থলে থাকতেন। প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসায় মেয়েকে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে আনছিলেন ঝুমুরের মা মিনু বেগম।

এ ঘটনায় লঞ্চ মালিকের পক্ষ থেকে নবজাতককে ১০ হাজার টাকা উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি নবজাতক ও তার মা-বাবার এই লঞ্চে আজীবন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের সহকারী সুপারভাইজার হৃদয় খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাট নদীবন্দর থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করে। লঞ্চের নিচতলার ডেকের যাত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা ঝুমুর আক্তার।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ঢাকা নৌবন্দর ত্যাগ করার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝুমুর আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হয়। এ সময় ডেকের যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পাশাপাশি ঝুমুরকে ডেক থেকে নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেবিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কিন্তু ঝুমুর আক্তার প্রসববেদনায় এতটাই কাতরাচ্ছিলেন যে তাঁকে ওই অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠানোর পরিস্থিতি ছিল না। তাই ঝুমুরের স্বজনরা এবং লঞ্চের যাত্রীরা বিচলিত হয়ে ওঠেন।

এ সময় লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে রানী বেগম (৬০) নামের এক অভিজ্ঞ ধাত্রী সাহায্যে এগিয়ে আসেন।   তাঁর সহায়তায় লঞ্চের ডেকে ছেলেসন্তান প্রসব করেন ঝুমুর।

ধাত্রী যে কারণে যাত্রী : বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা রানী বেগম কিছুদিন আগে ঢাকায় মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ফিরছিলেন তিনি এই লঞ্চেই।

রানী বেগম মুঠোফোনে বলেন, সন্তান প্রসবের কাজে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও মেঘনা নদীতে গভীর রাতে তা-ও আবার চলন্ত লঞ্চে কোনো নারীর সন্তান প্রসবে সহায়তার ঘটনা তাঁর জীবনে বিরল।

সাহস নিয়ে তিনি ধাত্রীর কাজটি মনোযোগ দিয়ে করেছেন। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে এটাই আনন্দের বিষয়।

লঞ্চের পরিদর্শক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চে মেডিক্যাল কিট  থাকলেও অভিজ্ঞ কেউ ছিলেন না। ধাত্রী রানী বেগমকে পাওয়ার পর আমাদের উদ্বেগ অনেকটা কেটে যায়। ’

ঝুমুরের মা মিনু বেগম বলেন, ‘চিকিত্সকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে ছিলেন তাঁর মেয়ে। আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮ দিন পর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য দিন ছিল। তাই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলাম। কিন্তু এত আগে সন্তান প্রসব হবে সেটা ভাবনায় ছিল না। আকস্মিক সন্তান প্রসবে আমরা সবাই খুশি। ’



সাতদিনের সেরা