kalerkantho

শনিবার । ২৬ নভেম্বর ২০২২ । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

খুলনায় ধুঁকছে হিমায়িত মৎস্যশিল্প

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলনায় ধুঁকছে হিমায়িত মৎস্যশিল্প

সংকট নিরসনে খুলনার শিল্পাঞ্চলে সপ্তাহে এক দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন লোড শেডিং চলছে। এর প্রভাব পড়ছে হিমায়িত মৎস্যশিল্পে। এই খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে শিল্পটি ধুঁকছে।

বিজ্ঞাপন

এভাবে চলতে থাকলে খাতটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

কারখানা মালিকরা বলছেন, খুলনার শিল্পাঞ্চলে সোমবার বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ছয় থেকে আট ঘণ্টা লোড শেডিং দিতে হচ্ছে। কখনো ১০ ঘণ্টা লোড শেডিং হচ্ছে। জেনারেটর থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বরফও পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দাম অনেক বেশি।  

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ অঞ্চল হচ্ছে খুলনার রূপসা নদীর পূর্ব পার এলাকা। এখানে ৫০টিরও বেশি হিমায়িত শিল্প-কল-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫-৩০টি চালু আছে। অন্যগুলো কাঁচামালের অভাবে (চিংড়ি) আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

হিমায়িতকরণ মৎস্যশিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপসা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তিনটি বিভাগ। একটি ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড) এবং অন্য দুটি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) খুলনা ও বাগেরহাট জোন। এখানকার কারখানাগুলোতে দিনের ২৪ ঘণ্টায় তিন থেকে ছয়বারের লোড শেডিংয়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে হিমায়িত মাছের গুণমান কমে যাচ্ছে, তেমনি নতুন মাছ হিমায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না। হিমায়িতকরণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিলাস রাখা অবশ্যক। আর হিমায়িত হওয়ার পর শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হয়। যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে বরফশিল্পের ওপরও লোড শেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে। সাধারণভাবে একখণ্ড বরফ তৈরিতে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বরফ জমানো যাচ্ছে না। ফলে বরফের দাম বেড়ে গেছে। এক শ টাকার বরফ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, চিংড়িসহ হিমায়িত মাছগুলো অবশ্যই শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করতে হয়, তা না হলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমতে শুরু করে। এতে মাছের মান নষ্ট হয়ে যায়; রপ্তানি করার উপযোগী থাকে না। দেশের ৮০ শতাংশ রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয় খুলনা অঞ্চলে। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে এরই মধ্যে কারখানাগুলো ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। কিন্তু খুলনায় বিশেষত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলোয় লোড শেডিংয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে এই শিল্প একটি ভয়াবহ ধাক্কার সম্মুখীন হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি, তাই সরবরাহ করছি। লোড শেডিং করতে হচ্ছে, হয়তো চাহিদা মতো সব জায়গায় সরবরাহ করতে পারছি না। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের হাতে অন্য কোনো বিকল্পও নেই। ’



সাতদিনের সেরা