kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

স্কুল মাঠে ব্লক তৈরি, খেলা বন্ধ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুল মাঠে ব্লক তৈরি, খেলা বন্ধ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ব্লক তৈরি করায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ব্লক তৈরি করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ছাড়া তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

টাঙ্গন ব্যারাজ, বুড়ির বাঁধ ও ভুল্লী বাঁধ সেচ প্রকল্পে পুনর্বাসন, তীর সংরক্ষণ, সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ৮৩০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি ৭৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৪ টাকা।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ও শ্মশানঘাটের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শুক নদী।

বিজ্ঞাপন

সেই নদীর পার রক্ষায় মাঠে চলছে ব্লক নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। ফলে খেলার মাঠ নষ্টের পাশাপাশি শব্দদূষণে লেখাপড়ায় মনোযোগ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই না, ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যালয়ের বিদ্যুত্লাইন ব্যবহার করছেন অবৈধভাবে। সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে বসে নির্মাণ শ্রমিকদের মাদক সেবনের আড্ডা। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এই ব্লক তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী।

উত্তর বোয়ালিয়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, মাঠে মাসখানেক ধরে চলছে ব্লক নির্মাণের কাজ। এই কাজে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকরা স্কুল মাঠে ছাউনি করে থাকছেন এবং রান্না, খাওয়া-দাওয়াসহ যাবতীয় কাজ করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন মাঠের মধ্য দিয়ে চলছে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর ও সিমেন্ট আনা-নেওয়ার ভারী যানবাহন। এতে মাঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অনেক গর্ত।

আরেক অভিভাবক শরিফুল ইসলাম জানান, পাঠদানের সময় যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বিকট শব্দে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগের বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া এই শব্দদূষণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ব্যথা হওয়ার কথা জানা গেছে। তাই অবিলম্বে মাঠে ব্লক নির্মাণকাজ বন্ধ করা উচিত।

আরেক অভিভাবক ফাতেমা বেগম জানান, একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারকে জানালেও কাজ হয়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে চলছে কাজ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম জানান, পাশের নদী থেকে তোলা মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার, ছোট পাথরের স্থলে বড় পাথর, পাথরের সঙ্গে ইটের খোয়া মিশ্রণ করে ব্লক তৈরি হচ্ছে। নির্মাণকাজের মান খুবই নিম্ন। তৈরি করা ব্লকগুলো ব্যবহারের আগে ভেঙে যাচ্ছে।

উত্তর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাঠ থেকে সব কিছু সরিয়ে নিয়ে মাটি ফেলে আবারও একে খেলার উপযোগী করা প্রয়োজন। ’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেভি কনস্ট্রাকশনের মালিক জামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মিস্ত্রি সোনা মিয়া বলেন, ‘বড় পাথরের পরিবর্তে ছোট ভাঙা পাথর ও সিমেন্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ব্লক আরো মজবুত হতো। ’

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, মাঠ যেন নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর কাজের মান নির্ণয়ে ঢাকা থেকে টাস্কফোর্স টিম আসবে, তারা পরীক্ষা করে দেখবে। প্রয়োজনে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা