kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

এখনো ৪১ মামলা বিচারাধীন

৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ৪১টি মামলা এখনো বিচারাধীন। ওই ঘটনায় মোট ১৫৯টি মামলা করা হয়। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ওই হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল। একযোগে দেশের ৪৩৪ স্পটে পাঁচ শতাধিক বোমা হামলা চালিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করা সেই ঘটনার ১৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বুধবার।

বিজ্ঞাপন

তবে সময়ের ব্যবধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এখন কোণঠাসা জেএমবি। যদিও দ্বিতীয় সারির নেতারা ছোট দলে বিভক্ত জেএমবিকে সংগঠিত করতে চাইছেন। ভিন্ন মতাদর্শীদের ওপর হামলা করাই তাদের এখন টার্গেট বলে মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে র‌্যাব ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জেএমবির দ্বিতীয় সারির নেতারাও গ্রেপ্তার ও নিহত হওয়ার পর নেতৃত্বসংকটে সংগঠনটি। সর্বশেষ আমির সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সানি ভারতে থেকে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে গত তিন বছরে তাঁর অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দেশে জামিনে থাকা জেএমবি সদস্য এবং নতুন সদস্যদের ওপর কড়া নজরদারি অব্যাহত আছে।

আদালত, পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাব সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ১৫৯টি মামলার তদন্ত শেষে ১৬টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়। বাকি ১৪৩টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে ১০২টি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। বিচারাধীন আছে আরো ৪১টি মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল ৮৩০ জনকে। আর অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছিল এক হাজার ১২১ জনকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৯৮৮ জনকে। এসব মামলায় ৩৩৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে ৩৫৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিদের অনেকেই এখন পলাতক। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে আপিল করেছে আসামিরা।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৮টি মামলায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। অনেক মামলায় আসামিদের নাম-ঠিকানা কিছুই নেই। এসব কারণে ১৪ মামলায় মাত্র ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত।

ঢাকা মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, চারটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে মামলা বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীদের পাওয়া যায়নি। পুলিশও চেষ্টা করছে সাক্ষীদের খুঁজে বের করতে। চাঞ্চল্যকর এসব মামলা চাইলেই তো শেষ করে দেওয়া যায় না। তার পরও সাক্ষী যা হয়েছে বা আরো কয়েকটা সাক্ষী নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে এ বছরের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার চিন্তাভাবনা আছে।

এদিকে তদন্তকারী সূত্রগুলো জানায়, ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৭ সালের মার্চে জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমান, শুরা সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল ও ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর মাওলানা সাইদুর রহমান ও সালাউদ্দিন সালেহীনের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয় জেএমবি। তখন থেকেই দুজনের নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। ২০১০ সালের ২৪ মে সাইদুর রহমানকে রাজধানীর পূর্ব দনিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আরেক নেতা জামাই ফারুক ও সাইদুর রহমানের ছেলে তাসনীম জেএমবির দুটি ধারার নেতৃত্ব দেন। তবে গত কয়েক বছর সবাই সালেহীনকেই আমির হিসেবে মেনে নিয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সূত্র জানায়, হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে নব্য জেএমবির ২০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরনো জেএমবির ৯৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র‌্যাবের অভিযানেই জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমানসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। তাঁদের ফাঁসির রায়ও সরকার কার্যকর করেছে। জঙ্গিরা এখন সাইবার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘জাতিগতভাবে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। এ কারণে আমরা খুব অল্প সময়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গি কার্যক্রম থেকে ফিরিয়ে এনে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা