kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ডিজির বৈঠক, সমঝোতা হয়নি

মৌলভীবাজার, কুলাউড়া ও শাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ডিজির বৈঠক, সমঝোতা হয়নি

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের ২৩২টি চা-বাগানে চলমান ধর্মঘট নিরসনে চা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) খালেদ মামুন চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিজি আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিলে শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

তবে আজ বুধবার ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মালিকপক্ষের এবং ২৩ আগস্ট ঢাকায় শ্রমিক নেতা, মালিক ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

বিজ্ঞাপন

এই সময়ে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

শ্রীমঙ্গলে টানা তিন ঘণ্টা চলা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন, হবিগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি (অ্যাডমিন) শৈলন চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিকুর রহমান, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার, শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পরাগ বারই, সভাপতি মাখল লাল কর্মকার, সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালেন্দি, সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা, মনু ও ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী, জুড়ী ভ্যালির সভাপতি কমল চন্দ্র বোনার্জিসহ সাতটি ভ্যালির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

বৈঠক চলাকালে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ প্রতিটি চা-বাগানেই শ্রমিকরা ধর্মঘটের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। সকালে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা-বাগানের শ্রমিকরা ফিনলে চা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করে। সেখানে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাঁরা চা-বাগানের সড়কগুলোয় অবস্থান নেন। এ সময় চা শ্রকিদের উদ্দেশে নেতারা বলেন, ‘আমরা সমঝোতা বৈঠকে যাচ্ছি। আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান। ’

বৈঠক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘২৩ আগস্ট ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি সমাধান করব। সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করব। সারা বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন। এখন তাঁদের থামানোর সুযোগ নেই। ২৩ আগস্টের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ন্যায্য মজুরি পাব প্রত্যাশা করি। ’

বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী বলেন, ‘বৈঠকে শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য শুনে রেকর্ড রেখেছি। আমরা চা-শিল্পের স্বার্থে, শ্রমিকদের স্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছি। ২৩ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী, সচিব এবং মালিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। ’

ফিনলে টি কম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, চায়ের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন চার লাখ কেজি কাঁচা চা-পাতা উত্তোলন করা হতো। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রতিদিন দুই কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

কুলাউড়ায় ভুখা মিছিল

ধর্মঘটের মধ্যে গতকাল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগানে ভুখা মিছিল করেছেন বাগানের ৫৩৭ জন স্থায়ী শ্রমিকসহ প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক। তাঁরা মিছিল নিয়ে কুলাউড়ার গাজীপুর বাজারে এসে রাস্তা অবরোধ করেন।

কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক উত্তম কালোয়ার বলেন, ‘শ্রমিকরা এমনিতেই সামান্য মজুরি পান। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছেই। তাহলে আমাদের মতো শ্রমিকদের কী অবস্থা হতে পারে? ঘরে চাল-ডাল-তেল-নুন নেই। উপোসে দিন কাটাতে হচ্ছে। অথচ আমাদের মজুরি নিয়ে কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছে। ’

শাবিপ্রবিতে মানববন্ধন

মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়।



সাতদিনের সেরা