kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চারপাশে নোনা পানি, দুর্ভোগ

ইমতিয়াজ উদ্দিন, কয়রা (খুলনা)   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চারপাশে নোনা পানি, দুর্ভোগ

খুলনার কয়রা উপজেলার চরামুখা গ্রামের রিংবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারের চেষ্টা করে স্থানীয় লোকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সড়কের কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর সমান। দুই পাশের বাড়িঘর পানির নিচে। রাস্তার ওপরই ছোটখাটো বাজার। দোকানপাট বন্ধ।

বিজ্ঞাপন

পানির ওপরে দু-একটি টং পেতে চলছে সবজি বিক্রি।  

এই দৃশ্য খুলনার কয়রা উপজেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখার পাশের বিনাপানি গ্রামে। গত ১৩ আগস্ট কপোতাক্ষ নদের অস্বাভাবিক জোয়ারে চরামুখা গ্রামের রিংবাঁধ ভেঙে যায়। সেই থেকে টানা চার দিন স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নটির ১০টি গ্রাম তলিয়ে আছে নোনা পানিতে। মৎস্য ঘের, ধানের বীজতলা, স্থানীয় বাজার, বাড়িঘর, স্কুল, ইট বিছানো রাস্তা—সব কিছু পানির নিচে। দিনে দুইবার জোয়ারের পানিতে ভাসছে জনপদটি।

বিনাপানি গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন সরদার। ডুবে যাওয়া ঘরে থাকতে না পেরে উঠেছেন বাজারের ছোট দোকানটিতে। মেঝেতে পাতা চৌকিটাও ডুবে যাচ্ছে পানিতে। তারই ওপরে বসবাস। স্ত্রী ফাতিমা বেগম পাশে পাতা চুলায় রান্না করছিলেন। পানিতে ডুবন্ত ঘরের পাশে একটি ডিঙি বাঁধা। ব্যবসার কাজে ভাড়া এনেছেন। রাতে জোয়ারে ঘরে পানি উঠলে এই ডিঙিই হয় বিল্লাল সরদারের ঘুমানোর স্থান।

চরামুখা গ্রামের যে স্থানে বাঁধ ধসে পানি ঢুকেছে, তার খুব কাছেই বাঁধের পাশে মাজেদা বেগমের ঘর। স্বামী ওয়াজেদ আলী দিন এনে দিন খাওয়া মজুর। কোনোমতে চলছে পাঁচজনের সংসার। বাঁধভাঙনে কাজ না থাকায় পরিবারে সংকট আরো বেড়েছে। চরামুখা ওয়াপদার রাস্তার ধারে আরো অনেক বাড়িঘর। সব পানির নিচে। কাছেই পানির ভেতরে কাজ করছিলেন নিশিকান্তের স্ত্রী করুণা বালা। তিনি বলেন, ‘লবণ পানির মধ্যেই আছি টানা চার দিন। কোথায় যাব? যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। থাকার ঘর ডুবে আছে, চলার পথ ডুবে আছে, টয়লেট ডুবে আছে। পানি আনতে হয় দূরের কল থেকে। ’

কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই দেখা যায়, বিনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কিছুটা কম থাকলেও মাঠে অনেক পানি। বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনটিতে কয়েকটি পরিবার ঠাঁই নিয়েছে। দোতলায় আশ্রয় নেওয়া মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আরো মানুষ ছিল, কিছু মানুষ চলে গেছে। কিন্তু আমার পরিবারের যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই রয়ে গেছি। ’

পাউবোর (বিভাগ-২) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মশিউল আবেদিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ভেঙে যাওয়া রিংবাঁধ মেরামতের মাধ্যমে পানি আটকানোর জন্য মানুষ কাজ করছে। পাউবোর পক্ষে বস্তা ও বাঁশ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আজ বুধবারের মধ্যে পানি আটকানো যাবে। পানি আটকানোর পর মূল ক্লোজারে কাজ শুরু করা হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ বলেন, জোয়ার-ভাটার কারণে বেশি সময় কাজ করা যায় না। এ কারণেই মূলত বাঁধটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি প্রবেশ বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রিংবাঁধ মজবুতের চেষ্টা করা হবে।



সাতদিনের সেরা