kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফুলের মেলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফুলের মেলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়ক বিভাজকের বেশির ভাগ অংশে বাহারি ফুলের গাছ রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ একটা পথ ফুলের সুবাসের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে যদি যাওয়া যেত, তবে কেমন হতো? এমনই পরিবেশ রয়েছে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। এই পথে চলাচলকারীরা এখন বাহারি ফুলের সুবাস আর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে যাচ্ছে গন্তব্যে। আর প্রশংসা করছে এই সুন্দর পরিবেশের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা পড়েছে কুমিল্লা জেলায়।

বিজ্ঞাপন

ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের বুক বা সড়ক বিভাজকের বেশির ভাগ অংশই কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, জারুলসহ নানা জাতের ফুলের গাছ লাগিয়ে সাজানো হয়েছে। সেসব গাছে ফুটে আছে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সাদা ইত্যাদি রঙের ফুল। চার লেনের এই মহাসড়কের মধ্যখানে (সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডার) ফুলের বাগান আর দুই পাশে পিচঢালা পথ। কুমিল্লার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এলাকায় বেশি ফুলের দেখা মেলে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তর করার পর এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে অন্য লেনের গাড়ির ওপর না পড়ে, সে জন্য ২০১৭ সালের শুরুতে সড়ক বিভাজকের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ১৯২ কিলোমিটার মহাসড়কের ১৪৩ কিলোমিটার এলাকায় (সড়ক বিভাজক) গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, পলাশ প্রভৃতি ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। এ ছাড়া সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক বিভাজকের ওপর লাগানো হয়েছে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমণি, নিম, একাশিয়া, হরীতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ হাজারের বেশি গাছ।

কুমিল্লা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতে বিপরীতমুখী গাড়ির হেডলাইটের আলো নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা রোধে এবং মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো আমাদের নিযুক্ত শ্রমিকরা নিয়মিত পরিচর্যা করেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছরে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় কিছু গাছ মরে গেছে। আমরা সেসব স্থানে নতুন করে গাছ রোপণ করছি। গাছগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ’

কুমিল্লা-ঢাকা পথে বাসচালক আবুল কাসেম বলেন, ‘গাছগুলো শুধু যাত্রীদেরই বিনোদন দেয় না, আমাদেরও অনেক বড় উপকার করে। সড়ক বিভাজকে এসব গাছ থাকায় রাতে এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো অন্য লেনের গাড়ির ওপর পড়ে না। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। ’

জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত কুমিল্লার পরিবেশ সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডিভাইডারে বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপণ একটি চমৎকার উদ্যোগ। এতে যাত্রীরা মনোরম পরিবেশে চলাচল করতে পারছেন। পরিবেশেরও উপকার হচ্ছে। প্রতিটি মহাসড়কে এভাবে পরিকল্পিত বাগান করে আমরা পরিবেশকে আরো সুন্দর করতে পারি। তবে কোথাও কোথাও সড়ক বিভাজকে ও পাশে ময়লা ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে। ’ এ প্রসঙ্গে সুনীতি চাকমা বলেন, ‘প্রতিটি স্থানে মহাসড়কের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আমাদের লোকজন কাজ করছে। ’

কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাসযাত্রী পিংকি আক্তার বলেন, পুরো মহাসড়কে এখন বলতে গেলে ফুলের মেলা।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি এলাকার কলেজছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘শুধু যাত্রীদেরই নয়, আমাদের মনেও দোলা দেয় ফুলগুলো। ’

মোটরসাইকেলযোগে চলাচলকারী চৌদ্দগ্রামের আবুল বাশার রানা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমি মোটরসাইকেল থামিয়েও ফুলের সুবাস নিই। মহাসড়কের ফাঁকা স্থানেও ফুলের গাছ লাগানো হোক। ’

 



সাতদিনের সেরা