kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘সোনার বাংলা’র কর্মকর্তারা উধাও হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলছিটি উপজেলার মানপাশা বাজারে জুলাইয়ের শেষের দিকে নাসিমা বেগমের ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নেয় সোনার বাংলা। তাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকার ২৪-২৫ মতিঝিল বলে দাবি করে। এনজিওর কুশঙ্গল ইউনিয়নের ব্যবস্থাপক পটুয়াখালী সদরের আজিজুল হাকিম ও ঋণ কর্মকর্তা ঝালকাঠি শহরের চাঁদকাঠির নাজমা বেগম ওই কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রচার শুরু করেন। তাঁদের প্রলোভনে পড়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মাঠ কর্মকর্তা পদে চাকরি নেন স্থানীয় বাসিন্দা জেসমিন আক্তার, সুবর্ণা, আশা ও মান্নান। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাঁচ থেকে ২০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে ঋণ দেওয়ার। যে ব্যক্তি পাঁচ হাজার টাকা দেবেন তাঁকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ, যিনি ১০ হাজার দেবেন তাঁকে এক লাখ ও ২০ হাজার টাকা দিলে দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এই প্রলোভনে পড়ে কুশঙ্গল ইউনিয়নের প্রায় ২০০ মানুষ মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা জমা দেয়। মাঠ কর্মকর্তারা ওই টাকা এনজিওর ব্যবস্থাপক আজিজুল হাকিমের কাছে এনে জমা রাখেন। গত রবিবার তাঁদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।

ঋণপ্রত্যাশীরা সকাল থেকে ভিড় করেন এনজিও কার্যালয়ের সামনে; কিন্তু কার্যালয়টি তালাবদ্ধ এবং ভেতরে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় সন্দেহ হয় গ্রাহকদের। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁরা ঋণের জন্য অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তাকে পাননি। উপস্থিত মাঠ কর্মকর্তারাও কার্যালয়ের সামনে এসে তালাবদ্ধ দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। দুই কর্মকর্তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে গ্রাহকদের সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। তাঁরা বিষয়টি গতকাল সোমবার কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর সিকদারকে জানান।

মাঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা সংগ্রহ করেন জেমমিন আক্তার। তিনি ১১০ জনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা এনে দেন ব্যবস্থাপককে। সুবর্ণা ৮৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা সংগ্রহ করে দেন। মাঠ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘১০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে আমি চাকরি নিয়েছি। আমিসহ আটজন এই অফিসে কাজ শুরু করি। এলাকার প্রায় ২০০ ব্যক্তিকে গ্রাহক করে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা এনে কর্মকর্তাদের দিয়েছি। ’

কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর সিকদার বলেন, ‘এভাবে একটি এনজিও এসে অফিস ভাড়া করেছে, তা আমার জানা ছিল না। লোকজন এসে যখন কান্নাকাটি শুরু করেছে, তখন বিস্তারিত জানতে পারি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানাও ভুয়া। যিনি অফিস ভাড়া দিয়েছেন, তিনিও তাঁদের সম্পর্কে কিছু জানেন না। ’

নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘সোনার বাংলা নামে স্থানীয় কোনো এনজিও নেই। ’



সাতদিনের সেরা