kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তিন বছরে কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

মাসুদ রানা   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন বছরে কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় খুনিদের দিগ্বিদিক ছোড়া কামানের গোলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শের শাহ শূরি রোডের ১৩ জন নিহত হয়। এ ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ১৭ আসামির বিচার শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

বিচার চলাকালে গত ১৬ বছরে মাত্র ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত। বাকি ৪০ সাক্ষীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দিলে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আদেশ দেওয়ার পরও তাঁরা আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। এতে আলোচিত এ মামলার বিচার কার্যক্রম আটকে আছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘সাক্ষীদের বারবার সমন দেওয়ার পরও তারা সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হচ্ছে না। সাক্ষী না আসায় বিচার কার্যক্রম শেষ করা যাচ্ছে না। ’

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আগামী ২৩ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে মামলায় ৫৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। তবে গত তিন বছরে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

এ মামলার ছয় আসামির বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। তাঁরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহিউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ। এ মামলায় সাবেক তথ্য উপমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে (প্রয়াত) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। অন্য ১০ আসামি পলাতক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের সময় বিপথগামী সেনা সদস্যরা কামানের গোলা ছুড়লে তা গিয়ে মোহাম্মদপুরের শের শাহ শূরি রোডর ৮, ৯, ১৯৬ ও ১৯৭ নম্বর বাড়ির (টিনশেড বস্তি) ওপর পড়ে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) ছোড়া কামানের গোলার বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তে ধুলায় মিশে যায় ওই বস্তি। ওই ঘটনায় নারী, শিশুসহ ১৩ জন মারা যায়। প্রায় ৪০ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে কয়েকজন পুরুষ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রিজিয়া বেগম ও তাঁর ছয় মাসের মেয়ে নাসিমা, কাশেদা বেগম, ছাবেরা বেগম, সাফিয়া খাতুন, আনোয়ারা বেগম (প্রথম), ময়ফুল বিবি, আনোয়ারা বেগম (দ্বিতীয়), হাবিবুর রহমান, আবদুল্লাহ, রফিজল, সাহাব উদ্দিন আহম্মেদ ও আমিন উদ্দিন আহম্মেদ। এ ঘটনায় ৮ নম্বর বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ১৯৯৬ সালের ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করেন। ২০০১ সালের এপ্রিলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান। ২০০৬ সালের ১ নভেম্বর এ মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মারা গেছেন মামলার বাদী

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী গত বছরের ১৫ আগস্ট মারা যান। তাঁর স্ত্রী শাহানাজ বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোহাম্মদ আলীর শেষ ইচ্ছা ছিল এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যাওয়া। কিন্তু তাঁর সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। উনি এ মামলার বিচারের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। নিজের যতটুকু সম্পদ ছিল সেটাও আর নেই। এখন দুই সন্তান নিয়ে নিরুপায় হয়ে জীবন যাপন করছি। তিনি তো চলে গেছেন। এখন এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করা হোক। ’

 



সাতদিনের সেরা