kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

১০ দিন আগে অফিস খুলে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০ দিন আগে অফিস খুলে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে গতকাল ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

দরিদ্র পরিবারের সন্তান রুবেল। পরিবারকে অভাব অনটন থেকে বাঁচাতে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করতে না পারায় গ্রামের এক নারীর কথায় একটি সমিতির কাছ থেকে ঋণ নিতে যান। বলা হয়েছিল, পাঁচ হাজার টাকা জমা দিলে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

জমার টাকা দেন গত মঙ্গলবার। গতকাল রবিবার তাঁকে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল ওই সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন তালাবদ্ধ। তাঁর মতো আরো বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ঋণের আশায়।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। পৌর শহরের দরিরামপুর গ্রামের ফিসারি রোডে এ বি সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তির বাসাভাড়া নিয়ে এ মাসের শুরুর দিকে কার্যক্রম শুরু করেছিল পল্লী ভিশন নামের ওই সমিতি। ১০-১১ দিনেই তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় তিন শ গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তা ৫০ লাখ টাকার মতো হবে।

এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে ওই সমিতির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

পল্লী ভিশনের কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরসহ উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন, কিবরিয়া, মোমিনা খাতুন ও নাজমুল নামের চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন প্রতারিত গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের সরবরাহ করা পল্লী ভিশনের সঞ্চয় ও ঋণ পাস বইয়ে লেখা রয়েছে, সমিতির প্রধান কার্যালয় ৪/১, ব্যাংক কলোনি, মানিকগঞ্জ সদর।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ হাজার টাকা জমা এবং ১০০ টাকা সঞ্চয় দিলে গ্রাহক এক লাখ টাকা ঋণ পাবে বলে সমিতির মাঠকর্মীরা প্রচার চালান। এই হারে যে যত বেশি টাকা দেবেন তাঁকে সেই পরিমাণ ঋণ দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। গতকাল ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার সঞ্চয়ের টাকা তোলা হয়। সদস্যদের মধ্যে কেউ ১০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা জমা দেন।

পৌর শহরের নওধার এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালকের স্ত্রী জরিনা খাতুন জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় পল্লী ভিশন সমিতির কাছে তিনি ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছিলেন। একই এলাকার আবু হানিফ জানান, তাঁরা কয়েকজন মিলে জমা দিয়েছিলেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ দেন ৩৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামের ফাহিমা আক্তার পপি, আনোয়ারুল, শহিদুল ইসলাম স্বপন, রুবেল, আবু রায়হান, মিজানুর রহমান জবা রানী, বানু আরাসহ ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ওই সমিতিকে বাসা ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিক এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো প্রকার চুক্তিপত্র ছাড়াই বাসা ভাড়া দেওয়া আমার উচিত হয়নি। আমি এনজিও অফিস দেখে ভাড়া দিয়েছিলাম। ’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ভুয়া ওই সমিতির কার্যালয় ও মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা