kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দাবিতে গতকাল সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে চা শ্রমিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে মাঠে নেমেছেন চা শ্রমিকরা। মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ির রামগড়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির চা শ্রমিকরা গতকাল শনিবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। পাশাপাশি মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ করেন তারা।

মৌলভীবাজারে গতকাল সকাল থেকেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

বিজ্ঞাপন

চা-বাগানের শ্রমিকরা চায়ের পাতা উত্তোলন ও চা ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ না দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ফ্যাক্টরি এলাকায় অবস্থান নেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন বাগান থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনায় জড়ো হন। এ সময় তাঁরা ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক সহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় আধাঘণ্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করেন।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার ও শোক দিবসের ছুটি আগামী দুই দিন। ওই দুই দিনের মধ্যে ৩০০ টাকা মজুরির দাবি না মানলে আগামী মঙ্গলবার থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করা হবে।

তাঁরা আরো বলেন, চা শ্রমিকরা দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করছেন। প্রতিটি পরিবারে খরচ বেড়েছে। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক সময়ে বাগানের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। প্রতিবছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও তিন বছর ধরে তা বাড়ানো হচ্ছে না।

এদিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় কুলাউড়ার দিলদারপুর, ঝিমাই, বিজয়া ও রেহানা চা-বাগানের শ্রমিক ও পঞ্চায়েত কমিটি।

সিলেটেও কর্মবিরতি পালন করেছেন চা শ্রমিকরা। লাক্কাতুরা চা-বাগানের পাশের তেলিহাটি চা-বাগানের শ্রমিক প্রিমিল বাউরি (৭০) বলেন, ‘চালের কেজি এখন ৭০ টাকা, বেশির ভাগ সবজির কেজি ৬০ টাকা। অথচ আমাদের দিনমজুরি মাত্র ১২০ টাকা। এ টাকা দিয়ে কিভাবে চলব। ’ তাঁর মতো একই প্রশ্ন শতাধিক চা শ্রমিকেরও।

ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল সিলেটের বিমানবন্দর সড়কের লাক্কাতুরা চা-বাগানের সামনে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। সিলেট ভ্যালির আন্দোলনরত শ্রমিকরা সকাল থেকে লাক্কাতুরা এলাকায় বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকরা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে।

এরপর চা শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে সিলেট নগরের দিকে যান। নগরের চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এসে অবস্থান নেন তাঁরা।

পূর্বঘোষণা অনুসারে গতকাল সকাল থেকে হবিগঞ্জের চা-বাগানেও শুরু হয়েছে শ্রমিক ধর্মঘট। শ্রমিকরা এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।

সমাবেশে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তর আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করেছে। তারা আগামী ২৯ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় আলোচনার জন্য সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। ’ এদিকে চা সংসদের আহ্বায়ক তাহসিন আহমেদের দাবি, ‘চা শ্রমিকদের অযৌক্তিক আন্দোলনে চা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ’

খাগড়াছড়ির রামগড় চা-বাগানের শ্রমিকরা গতকাল পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। একই সঙ্গে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃত্বে চা শ্রমিকরা রামগড়-ফেনী সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় স্থানীয় বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহাদাৎ হোসেন সাজু ও পুলিশ এসে শ্রমিকদের শান্ত করে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ১৭টি চা-বাগানের শ্রমিকরাও। গত মঙ্গলবার থেকেই প্রতি দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন তাঁরা।

 

 



সাতদিনের সেরা