kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেতুর গার্ডার ফাঁপা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতুর গার্ডার ফাঁপা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে সেতুর গার্ডারে ঢালাইয়ের মিশ্রণ ঠিকভাবে না দেওয়ায় এবড়োখেবড়ো অবস্থা তৈরি হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পুরহরি-আমোদাবাদ-চানপুর সড়কে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাকা সেতুর (পিসি গার্ডার ব্রিজ) নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণ করছে। কিন্তু নির্মাণ চলাকালেই ধরা পড়েছে অনিয়ম। সেতুর একটি গার্ডারে ঢালাইয়ের মিশ্রণ ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এতে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানে থাকা এলজিইডির কর্মকর্তারা। ফলে সেতু নির্মাণে কার্যাদেশ পাওয়া জামালপুরের চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার দায় এড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ওই সেতুর একটি গার্ডার ঢালাই করা হয়েছে। পরদিন গ্রামের লোকজন সেতুর কিনার ঘেঁষে তৈরি করা কাঠের পাটাতন দিয়ে নদী পারাপারের সময় দেখতে পান গার্ডারের অনেক অংশ ফাঁকা। পরে শার্টারিংয়ে টোকা দিয়ে বুঝতে পারেন গার্ডারের ভেতরে ঢালাইয়ের মিশ্রণ ঠিকভাবে পৌঁছেনি। এ নিয়ে গ্রামবাসী হৈচৈ শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

গত বৃহস্পতিবার সেতুটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর নির্মাণাধীন গার্ডারকে চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। চট সরিয়ে দেখা যায়, গার্ডারে ঢালাইয়ের মিশ্রণ ঠিকভাবে না দেওয়ায় এবড়োখেবড়ো অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহাবোর রহমান বলেন, তিনি একজন কার্যসহকারীকে (ডাব্লিওএ) নিয়ে সারা রাত নির্মাণস্থলে উপস্থিত থেকে ঢালাই কার্যক্রম তদারকি করেছেন। গার্ডারের তলার কিছু অংশে ঢালাইয়ের মিশ্রণ না পৌঁছানোর গ্রামবাসীর অভিযোগ তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘ওই সময় মিস্ত্রিদের ভাইব্রেটর মেশিন (কম্পন সৃষ্টিকারী যন্ত্র) নষ্ট হয়ে পড়েছিল। ফলে গার্ডারে ঢালাইয়ের মিশ্রণ ফেলার পর ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই হয়তো গার্ডারের কিছু অংশের তলার দিকে ঢালাইয়ের মিশ্রণ (সিমেন্ট-পাথর-বালি) ঠিকভাবে পৌঁছেনি। তবে সিমেন্টের গ্রাউটিং (সিমেন্ট মিশ্রিত পানি) ফেলে জায়গাটি সমান করে দেওয়া হবে। ’ এভাবে নির্মাণ করলে সেতুটি যানবাহনের ভারবহনে সক্ষম হবে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি চাপ-পরীক্ষা করার পর বলা যাবে। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার খলিলুর রহমান বলেন, ‘স্যারেরা দেখে বলেছেন, এটা তেমন কোনো সমস্যা নয়। ’

এ ঘটনা জানতে পেরে গত বুধবার সকালেই ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে যায় এলজিইডির একটি কনসালট্যান্ট বিশেষজ্ঞ দল। তারা কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছে—তা জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের কার্যসহকারী (ডাব্লিওএ) মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘এটারও টিট্রমেন্ট আছে। ফলে সেতুর কাজে কোনো সমস্যা হবে না। ’

 



সাতদিনের সেরা