kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আরো নতুন এলাকা প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে নিম্ন ও লঘুচাপ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো নতুন এলাকা প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে নিম্ন ও লঘুচাপ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ১২টি গ্রাম, ঝালকাঠির ১০টি গ্রাম ও বাগেরহাটের সুন্দরবনসহ নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার এসব এলাকা প্লাবিত হয়। নদ-নদীতে হঠাৎ জোয়ারের পানি বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার উপকূলবাসী।

এর আগে একই কারণে ভোলার নিম্নাঞ্চলের ১০টি গ্রাম, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারি অফিস ও তিন উপজেলার ২০টি গ্রাম, লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকা, পটুয়াখালীর গলাচিপার ২০ গ্রাম ও বরগুনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ও গতকাল দুপুর থেকে শুরু হওয়া জোয়ারে প্লাবিত হয় হাতিয়ার তিন ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম। নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক ও বাজারগুলো প্লাবিত রয়েছে। জোয়ারে পানি বনে ঢোকায় সেখানকার হরিণকে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসতে দেখা গেছে। হাতিয়ায় নদীর পানি তিন থেকে চার ফুট বেড়েছে। প্লাবিত অন্য দুটি ইউনিয়ন হলো নলচিরা ও হরণী।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আফছার দিনাজ উদ্দিন বলেন, নিঝুম দ্বীপে প্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস। জোয়ারের পর পানি কিছুটা কমলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় নিঝুম দ্বীপ। জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নদীতে ব্যাপক ঢেউ হওয়ায় হাতিয়া-নোয়াখালী রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা করা হবে। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম জানান, আগামী দুই দিন পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

সুন্দরবন ও নিম্নাঞ্চলে পানি

বাগেরহাটের সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে গতকাল তিন ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। সকালে জোয়ারের সময় সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে পানি ঢুকতে থাকে। করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ বনের বিভিন্ন এলাকায় জোয়ারে পানি উঠে যায়। ভাটার সময় কিছু অংশের পানি নেমে গেলেও বনের নিচু এলাকায় পানি জমে ছিল। বন বিভাগ বলেছে, গত তিন দিনে জোয়ারের তুলনায় শুক্রবার সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে বেশি পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়। তবে করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, বন্য প্রাণীর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বাগেরহাটের পশুর, পানগুছি, বলেশ্বর, ভৈরব, দড়াটানাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়েছে। জোয়ারে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়। তবে ভাটার সময় অনেক অংশের পানি নেমে গেছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে চার দিন ধরে বাগেরহাটের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়েছে।

আরো ১০ গ্রাম প্লাবিত

বৃষ্টি ও জোয়ারে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়েছে। পাশাপাশি তিন দিন ধরে বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে জেলার কাঁঠালিয়া, রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার ৩০টি গ্রামসহ নিচু এলাকা। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরের বিষখালী নদীর বেশির ভাগ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় প্লাবিত হয়েছে ফসলের ক্ষেত। নলছিটির ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পানি উঠে গ্যাংওয়ে তলিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।  

ঝুঁকিপূর্ণ ৬২ কিমি বেড়িবাঁধ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে চার ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধির এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় ৬২ কিলোমিটার বেঁড়িবাধের একাধিক স্থান ধসে প্লাবিত হতে পারে অর্ধশত গ্রাম।

 



সাতদিনের সেরা