kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত উপস্থাপকও তারেক মাসুদ

পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত উপস্থাপকও তারেক মাসুদ

চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের ১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাটাবনের পাঠক সমাবেশে গতকাল তারেক মাসুদ স্মরণ ও ‘চলচ্চিত্রযাত্রা’ গ্রন্থের পাঠ-পর্যালোচনা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিনেমা নির্মাণে তারেক মাসুদ বেছে নিয়েছিলেন নিজস্ব দুনিয়া। বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বর্তমানময়তা তাঁর চলচ্চিত্রে হাজির ছিল সব সময়। চলচ্চিত্রকার হিসেবে তিনি প্রতিটি বস্তুকে পাখির মতো ওপর থেকে না দেখে অনেকটা ব্যাঙের মতো নিচ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তাঁর মতো সৎ নির্মাতা বিরল।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত ‘তারেক মাসুদ স্মরণ ও চলচ্চিত্রযাত্রা গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বক্তারা।

গতকাল শুক্রবার পাঠক সমাবেশের কাটাবন কেন্দ্রে মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি বেলায়াত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদ, নির্মাতা প্রসূন রহমান ও মুনিরা শরমিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘নিজের সময়কে নিজের মতো নির্মাণ করতে চেয়েছেন তারেক মাসুদ। এমন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন। বাংলাদেশের শিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত উপস্থাপকও তারেক মাসুদ। তারেককে স্মরণ করা দরকার আদতে আমাদের নিজেদের জন্যই। ’

তারেক মাসুদের লেখা ‘চলচ্চিত্রযাত্রা’ গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা করতে গিয়ে মোহাম্মদ আজম আরো বলেন, তারেক মাসুদ আসলে পুরো বইয়ে নিজের আত্মজীবনী লিখেছেন। মন্ময় বা তন্ময়ভঙ্গিতে বইটি লেখেননি বটে, তবে একটা মাঝামাঝি ভঙ্গিতে লিখেছেন। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস এবং তারেক মাসুদ যে সিনেমাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন, তার একটা পরিষ্কার উল্লেখ আছে বইয়ে।

চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, “তারেক মাসুদ চলে যাওয়ার পর আমরা মনে করেছি, বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রকার চলে গেছে। তারেক নিজেকে বুদ্ধিজীবী বলত না কখনো, বলত ‘চলচ্চিত্র চিন্তাবিদ’। আসলে সে বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি নিয়ে চিন্তার চেয়ে দুশ্চিন্তা বেশি করত। সেই অর্থে তারেক ‘দুশ্চিন্তাবিদ’। নিজের লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো বই আকারে দেখতে চেয়েছিল। তারেকের চিন্তাগুলো কাউকে প্রভাবিত করবে, সে আশা করেই আমরা মৃত্যুর পর ২২টি নিবন্ধ নিয়ে প্রথমবার বইটা করি। গত বছর বর্ধিত সংস্করণে ৩৮টি নিবন্ধ নিয়ে বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ। ”

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে নির্মাতা প্রসূন রহমান বলেন, সৃজনশীল মানুষের জীবন আসলে উদযাপনের বিষয়। তাঁদের কাজের মধ্য দিয়েই স্মরণ করি, শোকের মধ্য দিয়ে নয়। তারেক মাসুদ নিজেও সুলতানকে স্মরণ করেছেন আদম সুরত নির্মাণ করে।



সাতদিনের সেরা