kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাত বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল পাঁচ তরুণ

ভারতে পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে ভালো বেতনের চাকরির। কিন্তু তাঁদের গন্তব্য হয় ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের কারাগার ও জম্মু-কাশ্মীরের কারাগার। মানবেতর জীবন কাটিয়ে সাত বছর পর সেখান থেকে দেশে ফিরেছেন পাচারের শিকার পাঁচ তরুণ। গত সোমবার কারাগার থেকে মুক্তি পান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

আর গত বুধবার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনে মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি। সংস্থাটি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দিল্লির একটি এনজিওর সহায়তায় ওই পাঁচ তরুণকে বাংলাদেশে ফেরত আনে। বর্তমানে তাঁরা ঢাকায় সমিতির ট্রানজিট হোমে রয়েছেন। হতদরিদ্র পরিবারের এই তরুণরা জানেন না এখন তাঁরা কী করবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই পাঁচ তরুণের প্রতারিত হওয়া এবং সাত বছর কারাবাসের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দালালদের খপ্পরে পড়ে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী প্রায়ই পাচারের শিকার হচ্ছেন। তবে প্রশ্ন, পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কিভাবে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দালালের খপ্পরে পড়ে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ২০১৫ সালে সীমান্ত পাড়ি দেন তাঁরা। সংখ্যায় তাঁরা ছিলেন ছয়জন। সীমান্ত পার হওয়ার পরই বুঝতে পারেন, তাঁরা মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু চাইলেও তখন আর দেশে ফেরত আসা সম্ভব না। কারণ তাঁদের কাছে পাসপোর্ট-ভিসা নেই। এই ভুক্তভোগীদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলায়। মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ২০১৫ সালে ভারতে নেওয়া হয়। এর পরই তাঁরা আটক হন ভারতের পুলিশের হাতে। তারপর তাঁদের স্থান হয় কারাগারে। জম্মু- কাশ্মীরের কারাগারে তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়।

মহিলা আইনজীবী সমিতির তথ্যানুসারে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্টে এক বছর ছয় মাসের জেলের বিধান থাকলেও তাঁদের জেলে থাকতে হয়েছে সাত বছর।

 

 



সাতদিনের সেরা