kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভিন্ন পথে অটোরিকশা, লাফ দিয়ে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-দেউন্দি সড়কের ফরিদপুর এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল সুপ্তা রাণী দাশ (৩০) নামের এক শিক্ষিকাকে। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে।

ওই শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেননা ফরিদপুর এলাকায় গতকাল কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো যানবাহনও পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। তবে ফরিদপুর এলাকার পরই কাশিপুরে তিন রাস্তার মোড়। স্কুলে যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক তাঁকে একা পেয়ে ভিন্ন রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি লাফ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষিকা আগে থেকে বলেননি কোথায় যাবেন, এ জন্য অন্য রাস্তায় ঢুকে পড়েছিলেন তিনি।

সুপ্তা রাণী দাশ শায়েস্তাগঞ্জের নিশাপট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের পবিত্র দাশের মেয়ে। তিনি অবিবাহিতা ছিলেন।

স্কুল ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুপ্তা রাণী দাশ প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে স্কুলে রওনা দিয়েছিলেন। পরে তারা জানতে পারে, স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হবিগঞ্জের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষিকাকে একা পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ভিন্ন রাস্তায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি লাফ দিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ’

ওই স্কুলের দপ্তরি সাইকুল ইসলাম হেলাল বলেন, এলাকার লোকজনের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কাশিপুর এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে ভিন্ন রাস্তার দিকে রওনা হলে শিক্ষিকা সুপ্তা রাণী দাশ লাফ দিয়েছিলেন। নিশাপট গ্রামের দুজন লোক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের পরিচয় তাঁরা এখনো জানতে পারেননি।

তবে নিশাপট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির নেতা আব্দুল বাছিত সেলিম বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে সুপ্তা রাণী দাশকে নিয়ে আসা আরেক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সবাইকে বলেছিলেন, ‘ওই শিক্ষিকার মাথায় ছিট আছে, তাই সে হঠাৎ লাফ দিয়েছে। ’ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের এই বক্তব্য সন্দেহজনক।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাইম জানান, ওই শিক্ষিকাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা অটোরিকশার চালকের কাছ থেকে জানা গেছে, আব্দুল মতিন নামের এক চালকের অটোরিকশায় তিনি স্কুলে যাচ্ছিলেন। পরে মতিনকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেছেন, ওই শিক্ষিকা কোথায় নামবেন তা তাঁকে আগে না জানানোতেই তিনি স্কুল অতিক্রম করে কাশিপুর পর্যন্ত চলে যান। আব্দুল মতিনের বাড়ি চুনারুঘাটে। পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিশাপট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জ্যোত্স্না আক্তার বলেন, ‘আমরা যখন ক্লাস নিচ্ছিলাম তখন খবর পাই। অন্য শিক্ষকদের নিয়ে তাকে তাৎক্ষণিক হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু জ্ঞান না থাকায় আমরা সুপ্তা রাণী দাশের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়টি জানতে পারিনি। ’

মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ডাক বিভাগের কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা আব্দুল কাইয়ুম জানান, সুপ্তা রাণী দাশের বাবা পবিত্র দাশ সাধারণ কৃষক। তাঁর ছোট এক ছেলে ও দুই মেয়ে। সুপ্তার ছোট বোন আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। তাঁর বাবা কিছু বলতে পারছেন না।



সাতদিনের সেরা