kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘এইবার চোখের কষ্ট থেইক্কা বাঁচমু’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এইবার চোখের কষ্ট থেইক্কা বাঁচমু’

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চক্ষু ক্যাম্পে গতকাল ৪৮ রোগীর বিনা মূল্যে চোখের ছানি, মাংস বৃদ্ধি ও নেত্রনালির অস্ত্রোপচার করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘দুই পোলা আছে, কেউ খবর লয় না। দুই বেলা খাইতে পামু কই, হেই চিন্তায় থাকতে হয়। এর মধ্যে কয়েক বছর ধইরা চোখের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারতেছিলাম না। ভাবছিলাম খাইতে পাই না, চোখ ভালা করমু ক্যামনে? কিন্তু আল্লাহ বসুন্ধরা হাসপাতাল ওয়ালাগোরে পাঠাইলো।

বিজ্ঞাপন

এহন মনে হইতাছে এইবার চোখের কষ্ট থেইক্কা বাঁচমু। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চক্ষু ক্যাম্পে কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা মতিউর রহমান (৭০)।

এদিন মতিউর রহমানের মতো ৪৮ রোগীর বিনা মূল্যে চোখের ছানি, মাংস বৃদ্ধি ও নেত্রনালির অস্ত্রোপচার হয়। বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে অসচ্ছল মানুষের জন্য বসুন্ধরা আই হসপিটাল, ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ও প্রফেসর মাহাবুব আহমেদ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই ফ্রি ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডা. সালেহ আহমদের তত্ত্বাবধানে সার্জারিতে অংশ নেন ডা. মৌটুসি ইসলাম ও ডা. রুবিনা আক্তার। ৩৭ জন পুরুষ ও ১১ জন নারীর চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসহায় এই মানুষদের শুধু চোখের চিকিৎসাই নয়, তাঁদের বসুন্ধরা ও প্রফেসর মাহাবুব আহমেদ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভারও বহন করেছে বসুন্ধরার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৪১ জনের ছানি, চারজনের মাংস বৃদ্ধি এবং তিনজনের নেত্রনালির অপারেশন করা হয়। শারীরিক সমস্যার কারণে আরেকজনের চোখে অস্ত্রোপচার করা যায়নি।

হাসপাতালের ম্যানেজার এইচ আর অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, ‘দুস্থদের সেবায় আগে থেকেই এ ধরনের প্রক্রিয়া চলে আসছে। সারা দেশে বিনা মূল্যে এই ক্যাম্প চলছে। ক্যাম্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫০০-এরও বেশি রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্প গত ২৪ জুন রেজাউল রহমান ভূঁইয়া আই ক্লিনিকে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ৬০০ রোগীকে বিনা মূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়। তারপর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় এই ৪৮ রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ৪৯ জন রোগীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হসপিটালের তৃতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে চোখের ছানির অপারেশনের পর বসে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাই গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী ফরিদ মিয়া। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যার কারণে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি আশা করছেন অপারেশনের পরে আবার সব ঠিকঠাক দেখতে পাবেন।



সাতদিনের সেরা