kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান : চীন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান : চীন

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে বলে আশা করছে চীন। তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হলে চীন ভূমিকা রাখবে।

গতকাল রবিবার সকালে ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এমনটি বলেছেন চীনের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ওয়াং ই।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতা চায়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ঐকমত্য হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে তিনি তাঁর সমর্থন জানান।

সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে; কিন্তু মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আর ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে বলেছে। মিয়ানমার বলেছে, তারা আগে স্থিতিশীলতা আনতে চায়।

মোমেন বলেন, কম্বোডিয়ার নমপেনে আসিয়ান ও এআরএফের বৈঠকের সময় দুটি দেশ রোহিঙ্গা ইস্যু সরাসরি তুলেছে। অন্যরা মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার ওপর জোর দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট অনেক জটিল—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে গত শনিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর পর আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও তুলেছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। জবাবে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার অনেক জটিল দেশ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য চীন মিয়ানমারের রাখাইনে বাড়ি বানিয়েছে। রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে প্রথম কয়েক মাস তাদের খাবার দিতেও চীন প্রস্তুত।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা-অবরোধ ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা-অবরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ সব কারণে সারা বিশ্বের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে পারে। ’

বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন দেবে এবং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নেও চীন বাংলাদেশকে সাহায্য করবে। ওয়াং ই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাইওয়ান ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

এ সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ‘এক চীন নীতিতে’ বিশ্বাসী এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে মূল্যায়ন করে।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার প্রতিষ্ঠাতা মাও জেদংয়ের গুণমুগ্ধ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইয়ে তা উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভিডিও বার্তা দেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান। ওয়াং ই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।

কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বার্তা পাঠানোর জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।



সাতদিনের সেরা