kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বেতন স্থগিত, ছাঁটাই আতঙ্ক

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেতন স্থগিত, ছাঁটাই আতঙ্ক

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োজিত ৭৭৭ জন কর্মীর জুলাই মাসের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। বেতন স্থগিত হওয়া এই অস্থায়ী কর্মীরা বলছেন, সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর আমলে নিয়োগ হওয়ায় তাঁদের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। তাঁরা ছাঁটাই আতঙ্কে আছেন।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গত ৭ জুলাই নতুন মেয়রের দায়িত্ব নেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের শুরু থেকেই রিফাত বলছেন, সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়া বানিয়েছেন। এর আগে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ পর পর দুই নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত নেতা সাক্কু।

কুমিল্লা সিটির অন্তত তিনজন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক অস্থায়ী কর্মচারী কালের কণ্ঠকে বলেন, আগের মেয়র ছিলেন বিএনপির। তিনি কর্মী নিয়োগে বিএনপির সমর্থক বা তাঁর নিজের লোকদের বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন, এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের, এ জন্য তিনি আগের মেয়রের বিপরীত কাজ করবেন বলে সবার ধারণা। এ জন্য কর্মীদের মধ্যে ছাঁটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে এত বছর দৈনিক হাজিরাভিত্তিক অস্থায়ী নিয়োগে কাজ করেছেন স্থায়ী হওয়ার আশায়। এখন সেই সম্ভাবনা কমে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ৮৩ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তাঁদের প্রতি মাসে ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ৫৫ টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কর্মচারী আছেন ৭৭৭ জন। তাঁদের জন্য প্রতি মাসে খরচ ৭২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯০ টাকা। আগে ওই কর্মচারীরা দৈনিক ৩০০ টাকা করে মজুরি পেতেন। চলতি বছরের মে মাসে সাক্কুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাঁদের হাজিরা ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকা করা হয়। করপোরেশনে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বর্তমানে ৫৯০টি পদ সৃজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে লোকবলসংকট দূর হয়ে স্থায়ী জনবল বাড়বে এবং দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা কমবে।

সিটি করপোরেশনের সিইও সফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বেতন স্থগিত প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান মেয়র মহোদয় দায়িত্ব গ্রহণের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক এত লোকের প্রয়োজন আছে কি না, তাঁরা ঠিকভাবে কাজ করেন কি না এবং তাঁরা সরকারবিরোধী কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন কি না, এসব বিষয় যাছাই-বাছাই করার। কারণ দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মীরা তো সরকারবিরোধী কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারবেন না। এসব বিষয় বিষয় যাছাই-বাছাইয়ের জন্য তাঁদের জুলাই মাসের বেতন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র মহোদয়।

কুমিল্লা সিটি মেয়র আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে প্রায় ৯ গুণের বেশি দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মী, এটা মেনে নেওয়া যায় না। অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতি নেই। ’



সাতদিনের সেরা