kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কিস্তি না দেওয়ায় বেঁধে খালে নিক্ষেপ

ঝালকাঠি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় পার্থ হালদার (২৬) নামের এক যুবককে হাত, পা ও মুখ বেঁধে খালে নিক্ষেপ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পার্থ ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারার হাট ভীমরুলী এলাকায় ট্রলারে করে পর্যটক বহন করতেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি ভীমরুলী গ্রামের পরিমল হালদারের ছেলে।

পরিবার সূত্র জানায়, ছয় মাস আগে পেয়ারা চাষি সমবায় সমিতি নামের স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেন পার্থ। ওই টাকা দিয়ে একটি ট্রলার ভাড়া করে তিনি ভীমরুলী পেয়ারার ভাসমান হাটে পর্যটক বহন করতেন। কিন্তু আয় সামান্য হওয়ার ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারছিলেন না তিনি। এ নিয়ে গত শনিবার দুপুরে পার্থর সঙ্গে এনজিওর মালিক জীবন কৃষ্ণর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় পার্থকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ওই দিন রাতে পার্থ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জীবন কৃষ্ণের নেতৃত্বে এনজিওটির কয়েকজন লোক পার্থর ট্রলার আটক করেন। এরপর তাঁর হাত, পা ও মুখ বেঁধে দুয়ারিবাড়ির খালে ফেলে দিয়ে চলে যান। স্থানীয়রা পার্থর গোঙানির শব্দ পেয়ে এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর প্রথমে তাঁকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

পার্থর স্ত্রী সমাপ্তি হালদার বলেন, ‘জীবন কৃষ্ণ বাবুর সমিতি থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার পর কিস্তির টাকা শোধ করতে ট্রলার ভাড়া নিয়ে পেয়ারাবাগানে পর্যটকদের ঘুরে দেখানোর কাজ করেন পার্থ। অভাবের সংসারে দৈনিক যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই দিন চলত। এর মধ্যে কিস্তি দিতে না পারায় সমিতির লোকজন প্রতিদিন তাঁকে মারতে আসত। তাঁরাই আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। ’

কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, অভিযুক্ত জীবন পার্থর কাছে টাকা পাবেন, এটা সত্য। এর জের ধরে গত শনিবার জীবন তাঁর ট্রলার আটকান। ’

ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা