kalerkantho

শনিবার । ২৬ নভেম্বর ২০২২ । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জনস্বার্থের নামে ‘ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক আদেশ’ চ্যালেঞ্জ নয়

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

মেহেদী হাসান পিয়াস   

৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনস্বার্থের নামে ‘ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক আদেশ’ চ্যালেঞ্জ নয়

ফৌজদারি কার্যবিধিসহ নির্দিষ্ট আইনের অধীন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) কোনো আদেশ দিলে জনস্বর্থের নামে সেটা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা যাবে না। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

গত ৭ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে জুরাইন রেলগেট এলাকায় উল্টোপথে আসা দুই আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল আটকান কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলী হোসেন। মোটরসাইকেল ও এর চালকের কাগজপত্র দেখতে চাইলে এক পর্যায়ে চালকের সঙ্গে ওই সার্জেন্টের বাগবিতণ্ডা হয়।

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীও তখন সার্জেন্টের পরিচয়পত্র দেখতে চান। এক পর্যায়ে চালক ও মোটরসাইকেলের নারী আরোহীকে পুলিশ বক্সে নেওয়া হলে ওই নারী চিৎকার শুরু করেন। এর জেরে এলাকাবাসী এসে ওই পুলিশ বক্সে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে ও সার্জেন্টকে মারধর করে। এ নিয়ে ওই দিন রাতেই তিনজনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।  

এ মামলায় গত ৮ জুন আইনজীবীসহ (মোটরসাইকেল আরোহী) পাঁচজনের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন। এই পাঁচজনের মধ্যে একজন আইনজীবী ও একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন ওই রিমান্ড আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলে এলাহী। জনস্বার্থ উল্লেখ করা সে রিটের প্রাথমিক শুনানির পর গত ৯ জুন হাইকোর্ট মামলার নথি তলব করে রিমান্ডের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। ওই দিন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলে শুনানি ১৯ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন। পরে ১৯ জুন শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন আপিল বিভাগ। রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে ওই রিটে হাইকোর্টের জারি করা রুল খারিজ করা হয়। সম্প্রতি ১১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের রিমান্ড আদেশের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ‘আইনগতভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশ দেওয়ার সুযোগ আছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনেই তিনি আদেশটি দিয়েছেন। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ জনস্বার্থের নাম করে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। কারণ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া আদেশ সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে ‘সংশোধনী অধিক্ষেত্রের’ অধীনে সংশোধন যোগ্য। যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁরা যদি সে আদেশে সংক্ষুব্ধ হতেন তাহলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে যেতে পারতেন। তা ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের রিমান্ড আদেশটি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। ’

 



সাতদিনের সেরা