kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

এখনো বসবাস ভাঙা ঘরে

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখনো বসবাস ভাঙা ঘরে

বাড়িঘর ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের পূর্ব পাড়ায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাতলপাড় গ্রামের দুটি অংশ—পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া। দুই পাড়ার মধ্যে পার্থক্যও বিস্তর। পশ্চিমপাড়ার বাড়িঘর শক্তপোক্ত, আছে অনেক দালানও। পূর্বপাড়ার ঘরগুলো নড়বড়ে, বাঁশ-টিনের।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক বন্যা তাণ্ডব চালিয়েছে পূর্বপাড়ায়। একটি বাড়িও অক্ষত নেই। কিছু বাড়ির শুধু চালা পড়ে আছে। মসজিদ, দোকান ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে।

চাতলপাড় গ্রাম সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখাল ইউনিয়নের অন্তর্গত। সিলেট সদর থেকে কোম্পানীগঞ্জে ঢুকতেই তেলিখাল ইউনিয়ন। কিন্তু চাতলপাড় গ্রামটি পড়েছে প্রত্যন্ত এলাকায়। হাওরের মাঝখানে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের থানা বাজার থেকে নৌকায় ১৫-২০ মিনিটের পথ। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় বন্যায় খুব একটা ত্রাণ পায়নি গ্রামবাসী।

সম্প্রতি কাটাগাঙ নদী হয়ে চাতলপাড় পূর্বপাড়ায় পৌঁছাতেই দেখা হয় মৎস্যজীবী আঙ্গুর মিয়ার (৩০) সঙ্গে। বছর খানেক আগে দুই কক্ষের একটি ঘর বানিয়েছিলেন টিন-বাঁশ দিয়ে। বন্যায় সেই ঘর ভেঙে গেছে। সেই বর্ণনা দিয়ে তিনি বললেন, ‘কোনোমতে পরিবার আর দুই মেয়েরে নিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়া জান বাঁচিয়েছিলাম। কিছু নিতে পারিনি সঙ্গে। দুই দিন পর এসে দেখি বন্যায় সব নিয়ে গেছে। ’ আঙ্গুর মিয়ার মতো বন্যায় ঘরের বাঁশের দেয়াল ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। গ্রামের নুরু জালাল, আবু বক্কর, শুক্কুর আলী, ইয়াসিন মিয়া, হামিদা বেগমরা এমন ভাঙা ঘরেই দিন যাপন করছেন। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা জাহানারা বেগমের। বন্যার স্রোতের তোড়ে তাঁর পুরো ঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

চাতলপাড় পূর্বপাড়ার মানজু মিয়া একসময় ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। আয় রোজগার ভালোই ছিল। শখ করে সুন্দর করে ঘর তুলেছিলেন। ঘরের ভেতর বক্সখাট, সোফা, টিভি, ফ্রিজ সবই ছিল। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সা যা জমানো ছিল সব দিয়ে এই ঘর তুলেছিলেন শখ করে। বন্যায় সব গেছে। ভারী বক্সখাটও পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তখন প্রাণ নিয়ে কোনোমতে অন্যের আশ্রয়ে গিয়েছিলাম। এসে দেখি, বন্যা একেবারে নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। ’

চাতলপাড় পূর্বপাড়ার উনুহা বিবি বললেন, ‘গ্রামের এদিকে প্রায় ৪০০ ঘর আছে। এর মধ্যে ৩০০ ঘরই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০টির মতো ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’

সিলেট জেলার বন্যাকবলিত মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সংস্কারে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’ থেকে পাঁচ হাজার পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও গ্রামবাসী পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নিজের ছেলেকে বরাদ্দ পাইয়ে দিলেও তাঁদের দেননি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য জহিরুল হক বলেন, ‘অভিযোগ ঠিক নয়। সহযোগিতা পেয়েছেন। ’



সাতদিনের সেরা