kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কৃষকদের প্রণোদনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কৃষকদের প্রণোদনা

সুনামগঞ্জে বন্যার কারণে এ বছর রোপা আমন চাষ বিলম্বিত হচ্ছে। এ জন্য সরকারিভাবে বিআর ২২ ও ২৩ বীজ লাগানোর জন্য প্রণোদনা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। জেলায় ১৬ হাজার ৫০০ কৃষককে এই প্রণোদনা দিয়েছে তারা।

প্রণোদনার আওতায় আট হাজার ১০০ কৃষককে পাঁচ কেজি করে বিআর ২২ ধান, আট হাজার ৪০০ কৃষককে পাঁচ কেজি করে বিআর ২৩ ধান এবং ১৬ হাজার ৫০০ কৃষককে ১০ কেজি করে জিওপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় আমন বীজের লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন চাষ করা যাবে। সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের আমন চাষে উৎসাহ দিতে এবং বন্যার কারণে বিলম্বিত ফলন পুষিয়ে নিতে প্রণোদনাসহ কৃষকদের এই ধান চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তার পরও বন্যার কারণে এবার আমন চাষাবাদ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ভয়াবহ বন্যায় আউশের পাশাপাশি রোপা আমনের আবাদও হুমকিতে পড়ে। বৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছিলেন না কৃষকরা। দিনে বীজতলা তৈরির পর রাতে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এ রকম ঘটনাও ঘটেছে। তা ছাড়া যথাসময়ে জমি থেকে পানি না নামায় অনেকে বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। এতে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। ফলনে বিপর্যয় ঠেকাতে চলতি বছর বিআর ৪৯, ৭৫, ৮৭, ২২, ২৩ এবং বিনা ধান ১৬, ১৭ ও ২৩ ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে সরকারিভাবে। বিশেষ করে উচ্চ ফলনশীল বিআর ২২ ও ২৩ বীজধানের চাষাবাদে প্রচারণা চালিয়েছে কৃষি বিভাগ। এই বীজের চাহিদা বেশি থাকলেও কৃষকরা যথাসময়ে পর্যাপ্ত বীজধান পাননি এমন অভিযোগ আছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় ৮১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা হলো চার হাজার ৩০০ হেক্টর। তবে পানি যথাসময়ে না কমায় শাল্লা, জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ের বিভিন্ন অংশের কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। তাঁরা পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলা থেকে চারা নিয়ে এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক আমন চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের কৃষক বদরুল আলম বলেন, ‘দুই দফা বীজতলা তৈরি করেছি। প্রথম দফা দিনে বীজ ফেলার পর রাতে টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। আমার মতো আরো অনেক কৃষকও এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তা ছাড়া সরকার যে অল্প বীজ দিয়েছে তাতে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত জমি চাষ করতে পারবেন না। ’

শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক হারাধন দাস বলেন, ‘চারদিকে পানি থাকায় এলাকার আমন চাষিরা এ বছর যথাসময়ে বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলা থেকে চারা নিয়ে আসতে হচ্ছে আমাদের। এতে সময় ও অর্থ অপচয় হয়েছে। ’

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘এবার ভয়াবহ বন্যার কারণে আমন চাষাবাদ কিছুটা বিলম্বিত হলেও লক্ষ্যমাত্রায় তারতম্য হবে না। কারণ আমরা প্রণোদনার মাধ্যমে বিআর ২২ ও ২৩ ধান এবং সার দিয়ে সাড়ে ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছি। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ বীজতলার কাজ শেষ করতে পেরেছি। তাই আমরা আশাবাদী, আমন চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই হবে। ’



সাতদিনের সেরা