kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

সরকারি সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি

‘আমার বাবা নেই। ভূমি অধিগ্রহণে ৩৮ শতক জায়গার ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য আমার আম্মা ৪০ বছর ধরে বন্দর ও জেলা প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরছেন। যারা এই ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের উল্টো ভূমি ও টাকা দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ’ গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রাম আয়োজিত গণশুনানিতে এসব কথা বলেন মিজানুর রহমান নামের এক যুবক।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) শাহ আলম শহীদ বীর-উত্তম মিলনায়তনে হয়রানি ও ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপত্তা বিভাগে চাকরি করা এই যুবক। এ সময় তাঁর পাশে থাকা ৮৭ বছর বয়সী মা নুর চেহের বেগম কাঁদছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিজানুর রহমান বলেন, ‘অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। কিছুক্ষণ আগেও আমাকে ফোন করে চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে আমি এখানে কিছু না বলি। ’

এরপর দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খানের নির্দেশে মিজানুরকে জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রিপন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে তিন বছর আগে মায়ের জন্য পাসপোর্ট করতে গিয়েছিলেন। নির্ধারিত ফি দিয়েও এখনো পাসপোর্ট পাননি। কর্তব্যরত কর্মকর্তা ভুলবশত ব্যাংক রশিদ জমা করেন অন্য আরেকজনের নামে। এরপর ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এনায়েত উল্লাহকে দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় দুদক।

শুধু ওই দুটি প্রতিষ্ঠানই নয়, গতকালের গণশুনানিতে চট্টগ্রাম নগরে অবস্থিত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন। চার ঘণ্টা ধরে চলা গণশুনানিতে ৪৭টি অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে কয়েকজন অনুপস্থিত থাকায় ৩৫টি অভিযোগের শুনানি হয়। যেখানে দুর্নীতির চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হয়রানি ও ভোগান্তির অভিযোগ বেশি ছিল।

বেশির ভাগ অভিযোগ ছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সাতটি), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (পাঁচটি), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চারটি), পাসপোর্ট অফিস (চারটি) এবং আগ্রাবাদ ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে (তিনটি)।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গণশুনানিতে অংশ নিতে এরই মধ্যে আড়াই শর মতো অভিযোগ জমা পড়েছিল। গণশুনানি সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন।

অভিযোগ উপস্থাপনের পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য শুনে দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক অনেক অভিযোগের নিষ্পত্তিও করেন। যেগুলো নিষ্পত্তি হয়নি সেগুলোর ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে কাউকে তিন দিন, আবার কাউকে সাত দিন সময় দেন নিষ্পত্তির জন্য। এর পরও আরো অনেক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ ছিল।

 

 



সাতদিনের সেরা