kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাওয়াহিরি হত্যায় সহযোগী পাকিস্তান!

তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

মাইকেল কুগেলম্যান   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাওয়াহিরি হত্যায় সহযোগী পাকিস্তান!

মাইকেল কুগেলম্যান

আল-কায়েদাপ্রধান আইমান আল জাওয়াহিরিকে হত্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য। জাওয়াহিরির হত্যার খবর নিয়ে প্রথমে যে প্রশ্নগুলো উঠবে—তিনি যে কাবুলে ছিলেন, এটি কি তালেবানের অজানা ছিল? আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক না থাকার দাবি সব সময় সন্দেহজনক। জাওয়াহিরিকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র কী কারো সহযোগিতা পেয়েছে? এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া ভালো, পাকিস্তানের গোয়েন্দাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফর বেশিদিন হয়নি। এটি একটি বড় সম্ভাবনা।

বিজ্ঞাপন

তালেবানের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য পেতে সাহায্য করেনি তো? এটি হয়ে থাকলে তালেবানের মধ্যে বিদ্যমান বিভাজন শিগগিরই আরো অনেক প্রকট হবে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে হত্যা করেছিল, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়েছিল। আর জাওয়াহিরিকে খুঁজে বের করে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে খুব সম্ভবত পাকিস্তানের সহযোগিতায়। আর এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোরালো হবে।

আফগানিস্তানে জাওয়াহিরিকে খুঁজে বের করার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হলো যে আল-কায়েদার সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই বলে তালেবান যে দাবি করে তা মিথ্যা। বরং তালেবান আফগানিস্তানে আরো অনেক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। তালেবান কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি না দিতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর অনাগ্রহের এটি মূল কারণ।

জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে জাতির উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভাষণ দিগন্তজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার বিষয়ে তাঁর প্রথম পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত বক্তৃতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা উপস্থিত না থাকলেও সন্ত্রাসের ঝুঁকিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখবে।

আরো একটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। আল-কায়েদার দুই শীর্ষ নেতাকে গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাংকারে পাওয়া যায়নি। তাঁদের পাওয়া গেছে শহুরে এলাকার বাড়িতে। বলা যায়, কাবুলে জাওয়াহিরিকে হত্যায় অভিযান এক বছর আগে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালেবানের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।

জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে অভিযানে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বাড়িয়ে বলতে চাই না। পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা ছিল না—এমন সরকারি ভাষ্যও আমলে নিতে চাই।

এখানে দুইভাবে সহযোগিতা থাকতে পারে। একটি আকাশসীমা এবং অন্যটি গোয়েন্দা তথ্য। অনেকে মনে করে, দুটিই পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিলে তা ভুল মনে হয় না। জাওয়াহিরি হত্যায় উপসাগরীয় কোনো মার্কিন ঘাঁটি থেকে যদি ড্রোনটি পরিচালনা করা হতো তাহলে এটি ইরানের ওপর দিয়ে উড়তে পারত না। মধ্য এশিয়ার ওপর দিয়ে ড্রোনটি আফগানিস্তানে নিতে হলে অনেক বৃত্তাকার পথ ঘুরতে হতো। দ্রুত অভিযানের জন্য এটি একটু কঠিন। এসব কারণে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করাই সবচেয়ে প্রত্যাশিত।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দার ইঙ্গিত দিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা ও নজরদারিতে কয়েক মাস লেগেছে। এটি কি যুক্তরাষ্ট্র একাই করেছে? আর তা মাঠ পর্যায়ে কারো উপস্থিতি ছাড়াই? যদি পক্ষত্যাগী কিছু তালেবান সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিয়েও থাকে, তার পরও আফগানিস্তানের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাকিস্তানের চেয়ে কে বেশি দিতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ার কিছু দেশ সহযোগিতা করেছে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না।

 

লেখক : যুক্তরাষ্ট্রের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক



সাতদিনের সেরা