kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মামলায় আসামি বিএনপির ৭১ নেতাকর্মী

ভোলা প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলায় আসামি বিএনপির ৭১ নেতাকর্মী

ভোলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় জেলা বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৭১ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিম নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করতে বললেও পরিবার আগ্রহী না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে বলে জানানো হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কায়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হেলাল, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মো. আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নূরে আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন হাওলাদার। অন্য ৫৯ আসামি ভোলা সদর, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনের উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

বিজ্ঞাপন

৭১ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে সংঘর্ষের দিন ঘটনাস্থল থেকে আটক পাঁচজনকেও মামলায় আসামি দেখানো হয়। তাঁরা হলেন সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মো. রিপন, রাজাপুর ইউনিয়নের মো. রিয়াজুল ইসলাম, ধনিয়া ইউনিয়নের মো. মাকসুদ ওরফে মাসুদ, চরনোয়াবাদ এলাকার মো. আজমির ও রাজাপুর ইউনিয়নের মো. নকিব। এ ছাড়া ওই দিন রাতে দৌলতখান পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর ও বোরাহানউদ্দিন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান লিটন ও মো. মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে মামলার বাদী সদর থানার উপপরিদশক মো. জসিম উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন প্রথমে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন ও আরিফ নামের এক কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ গুলিতে জেলা বিশেষ শাখার এক পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে মোট ৩০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১৬৫ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের ১০ জন সদস্য আহত হন।

এজাহারে আরো বলা হয়, নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমসহ মামলায় উল্লিখিত আসামি ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা একত্র হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। তাদের বিক্ষিপ্ত আক্রমণে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আবদুর রহিমসহ একাধিক লোকজন আহত হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুর রহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আবদুর রহিম হত্যায় পুলিশের উপপরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে সেখানে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ মামলার এজহারে পুলিশ উল্লেখ করে, নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমের পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা করতে বললেও তারা রাজি হয়নি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অপারাধীদের শনাক্ত করতে ঘটনার দিনে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।



সাতদিনের সেরা