kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আইনজীবীর কাছে ২৬ কোটি টাকার হিসাব চেয়েছেন হাইকোর্ট

গ্রামীণ টেলিকম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউসুফ আলী তাঁর মক্কেলদের কাছ থেকে (গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী) কী বাবদ ২৬ কোটি টাকা নিয়েছেন, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে তাঁকে উল্লেখ করে একটি হলফনামা বৃহস্পতিবারের মধ্যে দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। এসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এ সময় আদালত ইউসুফ আলীর আইনজীবীদের উদ্দেশ করে বলেন, “হলফনামা দিয়ে পরিষ্কার বিষয়টি করুন, যাতে দেশের উচ্চ আদালত নিয়ে মানুষের বিন্দুমাত্র সন্দেহ না থাকে। আইনজীবী হিসেবে আপনি যে ফি পেয়েছেন, তা লুকানোর কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

কত টাকা ফি নিয়েছেন, তা হলফনামায় স্পষ্টভাবে জানান। ‘অন্যান্য খরচ’ বাবদ আরো ১০ কোটি টাকা কী বাবদ পেয়েছেন, তা ‘পরিষ্কারভাবে’ জানাবেন। এতে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও স্পষ্ট করবেন। ”

এর আগে আইনজীবী ইউসুফ আলীর আইনজীবীদের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা আদায় বাবদ ইউসুফ আলী ‘ফি হিসেবে’ ১৬ কোটি টাকা নিয়েছে। এ ছাড়া ‘অন্যান্য খরচ’ বাবদ আরো ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই পেয়েছেন তিনি।

আদালতে আইনজীবী ইউসুফ আলীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সাঈদ আহমেদ রাজা, রবিউল আলম বুদু ও অনীক আর হক। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।  

পরে আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনজীবী ইউসুফ আলী এবং অন্য আইনজীবী যাঁরা ছিলেন তাঁদের ১৬ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। আরো ১০ কোটি টাকা ট্রেড ইউনিয়নের অ্যাকাউন্টে আছে। সুতরাং যে টাকা প্রদান করা হয়েছে তা ফি বাবদই প্রদান করা হয়েছে। আদালতে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী কোনো টাকা গ্রহণ করেননি। এমনকি তাঁদের অন্য কোনো অ্যাডভোকেটও গ্রহণ করেননি। হলফনামা যেটি দেওয়া হয়েছে সেটি আদালতের দৃষ্টিতে অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। তাই পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে আরেকটি হলফনামা দিতে বলেছেন। ’

আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে জানিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘সেদিন হলফনামা দিয়ে ইউসুফ আলী সাহেবকে বলতে হবে যে কত টাকা তিনি ফি হিসেবে পেয়েছেন, আদৌ তিনি ফি হিসেবে পেয়েছেন কি না, কত টাকা তিনি গ্রহণ করেছেন। বাকি ১০ কোটি টাকা অন্যান্য বাবদ খরচের কথা বলেছেন। এই ১০ কোটি টাকা কে পেল, সেটি পরিষ্কারভাবে বলতে বলা হয়েছে। ’

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে গত ৩০ জুন জানতে চান হাইকোর্ট। গ্রামীণ টেলিকম ও প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনজীবীদের কাছে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। কোন কর্মচারীকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার তালিকা এবং এসংক্রান্ত নথিসহ হলফনামা করে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত। সে ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিষয়টি আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।



সাতদিনের সেরা