kalerkantho

শনিবার । ২৬ নভেম্বর ২০২২ । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

২২ কোটি টাকার ভবনে নিম্নমানের কাজ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২২ কোটি টাকার ভবনে নিম্নমানের কাজ

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট-সুরকি। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলছে। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। কিন্তু চলমান কাজে নিম্নমানের ইট, রড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার হিরা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারকে ডাকা হয় উপজেলা পরিষদে।

বিজ্ঞাপন

সেখানে ঠিকাদারের ভগ্নিপতি উপস্থিত হয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। উত্থাপিত অনিয়মের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে ২১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাদ্দের এই টাকা ছাড় করবে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল এই প্রকল্পের আওতায় দুটি ভবনের কাজ শুরু হয়। এগুলো হচ্ছে—ছয়তলা বিশিষ্ট ৫০ শয্যার ভবন ও প্রশাসনিক ভবন। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মিয়া জানান।

এদিকে গত সোমবার দুপুরে সরজমিনে দেখে গেছে, কর্মচারীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে কাজ করছেন। কতজন কাজের সঙ্গে যুক্ত—তা জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন জানান, ১১৫ জন। এ সময় ছয়তলা ভবনের প্রবেশপথের দুই পাশের দেয়ালে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ভবনের প্রবেশপথ ধরে ভেতরে গেলে পশ্চিম ও পূর্ব পাশেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় জানালার পাশে, সিঁড়ির কার্নিশ ও ভেতরের বিভিন্ন দেয়ালগুলোতেও নিম্নমানের ইট-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য তলায়ও একই অবস্থা। মূল ভবনের পেছনে প্রশাসনিক ভবনেও নিম্নমানের ইট লক্ষ করা গেছে। ভবনের নির্মাণকাজে নিম্নমানের চিকন বালুও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিরা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারের ভগ্নিপতি ইমরান হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজারে নির্মাণসামগ্রীর দাম অনেক বেশি। ফলে এই কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দুই কোটি টাকা ক্ষতি হবে। তার পরও ইটের বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। ইউএনও স্যার ডেকেছিলেন। ’

ভবন নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুত্ফুন্নাহার বলেন, ‘নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার বিভিন্ন মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণকাজে অনিয়ম হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার শেখ অলিদুর রহমান হিরাকে খবর দিয়ে উপজেলা পরিষদে আসতে বলি। কিন্তু ঠিকাদারের পরিবর্তে উপস্থিত হন ঠিকাদারের ভগ্নিপতি ইমরান হোসেন পাটোয়ারী। এ সময় তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজের দায়িত্বে তিনি রয়েছেন। নিম্নমানের ইট, রড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের কথা তাঁকে জানালে তিনি সন্তোষজনক কথা বলতে পারেননি। এ কারণে উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা