kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বালু বাণিজ্যে আ. লীগ ও বিএনপি একাট্টা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৩১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বালু বাণিজ্যে আ. লীগ ও বিএনপি একাট্টা

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি চক্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা একত্রিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন। ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, জনবসতি এলাকাসহ আবাদি জমি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বপাশ দিয়ে বহমান যমুনা নদী।

বিজ্ঞাপন

নদীর বুকে জেগে উঠেছে বৈশাখী ও রাধানগর চর। চরে আবাদি জমিসহ গড়ে উঠেছে জনবসতি। দুটি চর এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে খনন যন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ২০ নেতা একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন উপজেলা যুবলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন ও গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক শাহ।

কমিটি প্রধান বেলাল হোসেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে ম্যানেজ করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর রফিক শাহ খনন যন্ত্র দিয়ে বালু তুলে তা বিক্রি করেন। এই কমিটির প্রভাবশালী আরো দুই নেতা ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তাঁরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে থাকেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিন প্রায় ২০টি খনন যন্ত্র দিয়ে চর থেকে লাখ লাখ টাকার বালু তুলছেন তাঁরা। এই বালু পাশের সারিয়াকান্দি ও কাজিপুর এলাকায় মজুদ করা হয়। সেখান থেকে প্রতি ট্রাক বালু দুই-চার হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি রফিক শাহ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আপাতত বালু তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে অন্য এলাকার ব্যবসায়ীরা চরের বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ’

উপজেলা যুবলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, ‘বালু তোলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কেউ আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে। ’

যুবলীগ নেতা আব্দুর রশিদ ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে বালু তোলার প্রতিবাদ করে কোনো প্রতিকার পাইনি। তাঁরা আমাদের জমি থেকে বালু তুলে নিয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রতিদিন কিছু টাকা নেওয়া হয়। ’

ধুনট থানার ওসি কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, ‘বালু উত্তোলনকারীদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ’

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। এর আগে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা