kalerkantho

শনিবার । ২৬ নভেম্বর ২০২২ । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অবরোধ শেষে ইলিশের সমাগম, কমছে দামও

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২৭ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিরোজপুরে দীর্ঘ ৬৫ দিনের অবরোধের পর সাগরে ইলিশ ধরতে শুরু করেছেন জেলেরা। এ পর্যন্ত চার শতাধিক ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে বের হয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি জেলে। এরই মধ্যে মাছ নিয়ে জেলার পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নোঙর করেছে বেশ কিছু ট্রলার।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ডালায় দেড় থেকে দুই কেজির ইলিশের সংখ্যা বেশি এবং দামও নাগালের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, গত দু-তিন দিনে দাম কমেছে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, নদী থেকে পাওয়া দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ মিলছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া সাগরের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকায়। তার থেকে ছোট ইলিশ মিলছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতারা আনন্দেই মাছ কিনছে।

ইলিশ ক্রেতা অনিতা রাণী মণ্ডল বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও বাজারে এতটা ইলিশ ছিল না। দামও ছিল চড়া। বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে। সাগর থেকে আসা এক কেজির ইলিশ ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আমি দুটি ইলিশ কিনেছি এক হাজার ৫০০ টাকায়। ’

মাছ বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত দুই দিনে ইলিশ আসতে শুরু করেছে। মাছের দামও কমেছে। এই মৌসুমে ইলিশ ক্রেতার আগ্রহ একটু বেশি। মানুষের কাছে ইলিশ মাছের চাহিদা আছে, এতে আমরাও খুশি। ’

মৎস্য আড়তদার আব্দুর রহমান বলেন, পিরোজপুর জেলায় এই মৌসুমে সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রজনন সুবিধার কারণে ইলিশ আগের থেকে অনেক বেশি আড়তে আসছে। মাছের সাইজও বেশ বড়। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে এরই মধ্যে সারা দেশে মাছ যাচ্ছে।

সমুদ্রগামী জেলে ইউসুফ হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস তাঁদের কর্মহীন থাকতে হয়। শুধু চালে তো আর সংসার চলে না। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলে ভালো হতো।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, ‘দুই মাস জেলেরা নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। জেলার ২৬ হাজার জেলের মধ্য থেকে পাঁচ হাজার ৩৯৩ জন সমুদ্রগামী জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সরকারি সহযোগিতা পেয়েছে জেলেরা। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা মেনেছে তারা, যার সুফল আপনারা স্থানীয় বাজারে দেখতে পারছেন। ’



সাতদিনের সেরা