kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাঁচার আকুতি জানিয়েও রেহাই পেলেন না ফয়সাল

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সামনে হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সামনে ধারালো দা, রড ও লাঠি নিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন সন্ত্রাসী কক্সবাজারের ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে হত্যা করার জন্য হুংকার দিচ্ছিল। আর ফয়সাল তখন পুলিশের কাছে আকুতি জানিয়ে যাচ্ছিলেন, ‘স্যার, প্লিজ প্রয়োজনে আমার হাতে হাতকড়া পরিয়ে এখান থেকে নিয়ে যান। ’ আওয়ামী লীগের নেতাদের বলছিলেন, ‘লিডার, আমাকে আপনাদের গাড়িতে করে কক্সবাজার পর্যন্ত নিয়ে যান, না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। ’ এর পরও উপস্থিত কেউই রক্ষা করতে পারেনি ফয়সালকে।

বিজ্ঞাপন

সন্ত্রাসীরা তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী বিএনপিকর্মী আজিজ সিকদারসহ তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। আজিজকে গতকাল সোমবার বিকেলে র‌্যাব সদস্যরা আটক করেন। অন্য ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মুনীর উল গিয়াস জানান, গতকাল বিকেলে ফয়সালের লাশ দাফনের পর তাঁর স্বজনরা থানায় হত্যাকাণ্ডের মামলা করতে গেছে।

কক্সবাজারের খুরুশকুলে রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনে আজিজ সিকদার নামের স্থানীয় এক বিএনপিকর্মীর নেতৃত্বে তাঁর পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ জনের নারী-পুরুষের সশস্ত্র দল কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে ফয়সালকে। খুরুশকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন জানান, স্থানীয় ডেইলপাড়া গ্রামের ‘ঘড়িবেচা পরিবার’ নামে পরিচিত বিরাট পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

তিনি জানান, পরিবারটির এক সদস্য বছরখানেক আগে হত্যার শিকার হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল জড়িত বলে অভিযোগ করে আসছিল ওই পরিবারটি। তারা সেই থেকে ফয়সালকে হত্যার সুযোগ খুঁজছিল। রবিবার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ফয়সালের উপস্থিতির খবর পেয়ে হত্যাকারীরা সম্মেলনস্থলে কয়েক দফা হানা দেয় ফয়সালকে তুলে নিতে। এর পরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের গাড়িতে ফয়সালকে নিলে তিনি বেঁচে যেতেন। শত অনুরোধ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গাড়িতে তাঁকে না তুলে একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ সেই গাড়িতেই জীবিত ফয়সালের বদলে মৃত ফয়সালের লাশ নিয়ে যায় হাসপাতালে। ’ তিনি আফসোসের সুরে বলেন, ‘ফয়সাল হত্যাকারীদের দেখে আমার (মাহমুদুল করিম মাদু) গাড়িতেও উঠতে চেয়েছিলেন; কিন্তু তিনি পুলিশের গাড়িকে অধিকতর নিরাপদ মনে করেছিলেন। ’

 



সাতদিনের সেরা