kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

স্কুলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে না দেওয়ায় শিক্ষককে পিটুনি

শিক্ষকের বাড়িতে বোমা আতঙ্ক, ঘিরে রেখেছে পুলিশ

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাছ ধরতে স্কুলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের স্বজনরা এই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক শিক্ষকের বাড়িতে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

আহত শিক্ষকের নাম মোস্তফা কামাল (৪৪)। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সেহড়াউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। তাঁকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত তরুণরা হচ্ছেন—সেহড়াউন্দ গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে মোবারক মিয়া (২০), বকুল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২০)  ও সেকুল মিয়ার ছেলে শরীফ (১৫)।

কলমাকান্দার সিধলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক উজ্জল কান্তি সরকার জানান, রবিবার দুপুর ১টার দিকে সেহড়াউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ দিয়ে ডোবা থেকে মাছ ধরতে মোটর চালিয়ে সেচ দিচ্ছিল কয়েকজন তরুণ। বিদ্যালয়টির শিক্ষক মোস্তফা কামাল অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা শিক্ষককে দেশি অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

শিক্ষক মোস্তফা কামালের বড় ভাই মজিবুর মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে আমার ভাই এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি এভাবে তাকে পিটিয়ে আহত করবে কেউ। এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

এনায়েতপুরে শিক্ষকের বাড়িতে বোমা আতঙ্ক, ঘিরে রেখেছে পুলিশ

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক শিক্ষকের বাড়িতে বোমা আতঙ্কের ঘটনায় গতকাল সোমবার সকাল থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে সিআইডি ও পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বাড়ির মালিক শাহজাদপুর ঘোরশালের সাহিত্যিক বরকত উল্লাহ কলেজের প্রভাষক গফুর হোসেন জানান, রবিবার রাতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয়, তাঁদের খাবার ঘরের একটি স্থানে অস্ত্র রয়েছে। এর পরই মোবাইল সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। পরে খাবার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, কার্টুনের মধ্যে টেপ মোড়ানো লম্বাটে একটি বস্তু। সোমবার সকালে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়।

এনায়েতপুর থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, গোপরেখী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা কলেজশিক্ষক গফুর হোসেনের বসতঘরে বোমা স্বদৃশ বস্তটি উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে সোমবার সকাল থেকে বাড়িটি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল।



সাতদিনের সেরা