kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

এক সারির বেড়া চায় বিএসএফ

মেহেদী হাসান, পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) থেকে ফিরে   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক সারির বেড়া চায় বিএসএফ

সীমান্তে জনবসতি আছে, এমন এলাকাগুলোতে দুই সারির কাঁটাতারের বেড়ার বদলে অন্তত এক সারির বেড়া চায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আন্ত সীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় এটি প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএসএফ কর্মকর্তারা।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের উপমহাপরিদর্শক এস এস গুলেরিয়া জানান, চার হাজার ১২৯.১৭১ কিলোমিটার বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৯১৩.৮৮০ কিলোমিটারে দায়িত্ব পালন করছে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকাতেই বেড়া নেই।

বিজ্ঞাপন

৩৬৩.৯৩০ কিলোমিটার পড়েছে ‘রিভারাইন’ (নদী) এলাকায়।

গুলেরিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার ১৫০ গজ পেছনে দুই সারির বেড়া নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তের অনেক এলাকায় বসতির কারণে বেড়া নির্মাণের জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কয়েক শ গ্রাম আছে। বিষয়টি প্রস্তাব আকারে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে সম্মতি দেয়নি।

প্রশ্নের জবাবে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক অতুল ফুলেঝেলে বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের সম্মতির অপেক্ষায় আছেন। বাংলাদেশ যদি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে তবে তাঁদের আপত্তি নেই।

গত সপ্তাহে ইছামতী নদীর তীরে বিএসএফের ঘোজাডাঙা ‘বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি)’ আওতাধীন পানিতর এলাকা পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, ওই এলাকায় বাড়ির উঠানের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত রেখা। সেখানে কাঁটাতারের কোনো বেড়া নেই। বাংলাদেশের বাড়ির লোকজন যাচ্ছে ভারতের লোকজনের বাড়িতে। একইভাবে ভারতের বাড়ির লোকজন আসছে বাংলাদেশের লোকজনের বাড়িতে।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের উপমহাপরিদর্শক এস এস গুলেরিয়া জানান, এ ধরনের সীমান্তে চলাচল, অপরাধ ঠেকানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। সীমান্তের শূন্য রেখার কাছাকাছি ভারতীয় এলাকায় একটি পুকুর দেখিয়ে তিনি বলেন, একসময় এই পুকুরের মাছ শেষ হতো না! স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুকুর থেকে মাছ নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যেতেন। এক পুকুরে এত মাছ কিভাবে আসে—সন্দেহ হয় বিএসএফের। পরে তারা অনুসন্ধান করে জানতে পারে, সীমান্তবর্তী এই এলাকাকে মাছ পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে মাছ নিয়ে প্রথমে সীমান্তবর্তী ভারতীয় পুকুরে ফেলা হয়। এরপর আবার সেই মাছ পানি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করে ভারতীয় বাসিন্দারা।

এস এস গুলেরিয়া বলেন, বিষয়টি ধরে ফেলার পর এখন এভাবে মাছ চোরাকারবার প্রায় বন্ধ। কারণ ওই পুকুরের মাছ বলে কত কেজি মাছ বিক্রি করা হচ্ছে বা ওই এলাকার বাইরে ভারতের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার হিসাব রাখছেন বিএসএফ সদস্যরা।

পানিতর এলাকায় সীমান্তের কাছাকাছি ভারতীয় অংশের বাসিন্দাদেরও তাদের বাড়িঘরে আসা-যাওয়া করতে হয় বিএসএফ চৌকিতে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে। আসা-যাওয়ার সময় তাদের বায়োমেট্রিক উপায়েও পরিচিতি নিশ্চিত করা হয়। নারী-শিশুসহ সবাইকে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে যেতে হয়।

সীমান্তের ওপারে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার টাকি শহরের কাছে একটি এলাকা দেখিয়ে বিএসএফ কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানে কয়েক হাজার দোকান গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই এলাকার জনসংখ্যা, পণ্যের চাহিদা এত নয়। বিএসএফ এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বেশির ভাগ পণ্যই পাচার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে। এরপর কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু দোকান রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়।

গুলেরিয়া বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। তবুও তাঁরা এর পক্ষে। কারণ এতে সীমান্তে অপরাধ মোকাবেলা করা বেশ সহজ হয়। বিশেষ করে অপরাধীদের আন্ত সীমান্ত যাতায়াত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

 



সাতদিনের সেরা