kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আরো দুই প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ

কক্সবাজারের সার্ভেয়ার আতিকুর গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগভর্তি ২৩ লাখ টাকাসহ ধরা পড়া কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে কক্সবাজার থানা পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫৪ ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দর ও বেজার অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুক্রবার কক্সবাজার থেকে একটি বেসরকারি সংস্থার বিমানে সার্ভেয়ার আতিকুর ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে ঢাকায় বিমানবন্দরে ধরা পড়েন। সংবাদ পেয়েই আমি তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার পরামর্শ দিই। ’ তিনি আরো বলেন, একজন কর্মচারী এত বিপুল অঙ্কের টাকাসহ ধরার পড়ার ঘটনা অস্বাভাবিক। এ কারণে শুক্রবারই আতিকুরকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেলেই আতিকুরকে কক্সবাজারে নিয়ে আসা হয়। এরপর ব্যাগভর্তি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকাসহ তাঁকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক থানায় এক লিখিত আবেদনে আতিকুরের বিপুল টাকার উত্স খুঁজে বের করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুুরোধ জানান। আবেদনটি জিডি হিসেবে রেকর্ড করে আতিকুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত কার্যালয়কে অবহিত করা হয়।

সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি মহেশখালী দ্বীপের অধিগ্রহণ করা কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব পেয়ে লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর দায়িত্ব ছিল মহেশখালীর ধলঘাটার গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি—বেজার অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। এই দুই মেগাপ্রকল্পের প্রায় এক হাজার ৫০০ একর অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকার চেক দিতে গিয়ে আতিকুর বিপুল অঙ্কের কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

বিমানবন্দরে ধরা পড়ার পর গোয়েন্দাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর তাঁর টাকার উত্স নিয়ে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। স্থানীয়দের কাছে ‘দালাল’ হিসেবে পরিচিত তাঁরা হলেন মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের বনজামিরা গ্রামের আহমদুল্লাহ ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মনহাজীর পাড়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম আশেক।



সাতদিনের সেরা