kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

চট্টগ্রামে কাউন্সিলরের পুত্রবধূর লাশ উদ্ধার

স্বামীর দাবি আত্মহত্যা বাবার দাবি হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুল আমিনের পুত্রবধূ রেহনুমা ফেরদৌসের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে তাঁর শশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রেহনুমার মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলেছে, রেহনুমা আত্মহত্যা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে রেহনুমার বাবা তারেক ইমতিয়াজ দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কাউন্সিলর পরিবার। এদিকে গতকাল সকালে লাশ উদ্ধারের পর দুপুরেই ময়নাতদন্ত করা হয়। বিকেলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। সন্ধ্যায় পারিবারিকভাবে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

পাহাড়তলী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর পরিবারের পক্ষ থেকে খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন যদি কেউ মামলার অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে মামলা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মর্গে দাঁড়িয়ে নিহতের বাবা ও সাবেক কাউন্সিলর তারেক সোলাইমান সেলিমের ভাই তারেক ইমতিয়াজ বলেন, ‘চার বছর আগে আমার মেয়ের সঙ্গে কাউন্সিলরপুত্র নওশাদুল আমিনের বিয়ে হয়েছিল। আড়াই বছর বয়সী এক নাতি আছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দেওয়া হতো। আমিও সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে মেয়ের শাশুড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুদিন আগে মেয়ে আমার বাসায় চলে আসে। মায়ের কথামতো, মেয়ের স্বামীও চলত। মেয়েকে নির্যাতন করত। এ কারণে স্বামীর সংসারে অতিষ্ঠ হয়ে রেহনুমা প্রায় তিন মাস আমার বাসায় ছিল। পরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের মধ্যস্থতায় রেহনুমাকে স্বামীর সংসারে পাঠাই। কিন্তু কে জানত, আমার মেয়েকে তারা মেরেই ফেলবে। ’ তাঁর দাবি, আত্মহত্যা করলে মরদেহে যেসব লক্ষণ থাকে রেহনুমার শরীরে সেই লক্ষণ নেই। ’ তিনি বলেন, রেহনুমাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কাউন্সিলর পরিবার।

এদিকে রেহনুমার স্বামী নওশাদুল আমিন পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, আগের দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল। এরই মধ্যে শনিবার সকালে রেহনুমা আত্মহত্যা করেছেন। স্ত্রীকে হত্যার প্রশ্নই আসে না। তাঁর শিশু সন্তান এখন মা হারা হলে গেল।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায়, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না রেহনুমার। প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি ছিল। নওশাদও মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কারণে রেহনুমা বিরক্ত ছিলেন। এর মধ্যে একবার স্বামীর সংসার থেকে গিয়ে বাবার বাসায় ছিলেন। পরে সাবেক মেয়রের মধ্যস্থতায় পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু শাশুড়ির আচরণগত কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় শুক্রবারও পারিবারিক তর্ক হয়। এর জেরেই রেহনুমার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর নূরুল আমিনকে এবাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় স্বামী পাহাড়তলী থানায় পুলিশের জেরার মুখে ছিলেন।

 



সাতদিনের সেরা