kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পুরনো মাদকের কারবার আবার চাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরনো মাদকের কারবার আবার চাঙ্গা

সত্তর ও আশির দশকে আফগানিস্তান থেকে পাচার হয়ে বিপুল পরিমাণ আফিম দেশে এসেছে। এরপর হেরোইনসহ বিভিন্ন নামে একই শ্রেণির মাদক পাচার হয়ে আসছে। কমে গিয়েছিল আফিম কারবার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফের আফিমের কারবার শুরু করেছে কিছু চক্র।

বিজ্ঞাপন

তারা ওষুধের কাঁচামাল আমদানির নামে আফিম নিয়ে আসছে।

আফগানিস্তান থেকে আফিম প্রথমে ভারতে পাচার হচ্ছে। এরপর ফেনীসহ কয়েকটি জেলার সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে। রাজধানীর পল্টন ও বনশ্রী এলাকা থেকে তিন কেজি আফিমসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবুল মোতালেব (৪৬) ও জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ভুইয়া (৪৪)।

ডিএনসি কর্মকর্তারা বলেন, মাঝেমধ্যে আফিম জব্দ হলেও বড় চালান মিলছিল না। ১০-১২ বছরের মধ্যে একসঙ্গে এত আফিম পাওয়া যায়নি। নতুন করে আফিম পাচার বাড়ার খবরে নজরদারি শুরু হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর শাহীনুল কবীরের টিম রাজধানীর পুরানা পল্টন লেন (ভিআইপি রোড) থেকে দুই কেজি আফিমসহ আবুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনশ্রী আবাসিক এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ভূঁইয়াকে আরো এক কেজি আফিমসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মোতালেবের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি ব্যবসায় জড়িত। তবে এর আড়ালে তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ভূঁইয়ার বাড়ি জামালপুরে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি গ্রুপ অব কম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। এর আড়ালে তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।  

জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, শপিং ব্যাগের ভেতরে একটি প্লাস্টিকের বয়ামের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো ছিল দুই কেজি আফিম। অন্য এক কেজি আফিমও পলিথিনে মোড়ানো ছিল। আফিম একটি ‘ক’ শ্রেণির মাদক। উদ্ধারকৃত তিন কেজি আফিমের আনুমানিক বাজারমূল্য পৌনে তিন কোটি টাকা।

আফিমের এ চালান কোন রুটে ও কীভাবে কারা নিয়ে আসছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, ভারত থেকে এই চালান বাংলাদেশে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাদকের হাব হচ্ছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তান থেকেই এই আফিমের সরবরাহ। আফিমের চালান ঢাকায় আনা হয় ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে। উদ্ধারকৃত আফিমের চালানটি ফেনী থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আফিম নতুন করে ঢাকায় সরবরাহের চেষ্টা করে আসছিল। ’

অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, ‘আফিম চোরাচালানের সঙ্গে আরো দুজনের নাম আমরা পেয়েছি, যা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে আফিমের উৎস এবং গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে। ’



সাতদিনের সেরা