kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

হেনস্তার শিকার হন ছাত্র উপদেষ্টা ও তাঁর স্ত্রীও

আশিকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহর হাতে ওই বিভাগের শিক্ষিকা হেনস্তা হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও তাঁর স্ত্রী হুমকি-হেনস্তার শিকার হন। আশিক উল্টো ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁকে মারধর করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে বসেন। পরে ওই ঘটনায় মুচলেকা নিয়ে তাঁকে তাঁর মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরীক্ষার সময় ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্ত দেওয়া হয়। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নুর এ বিষয়টি জানান।

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দিকীকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হেনস্তা করেন আশিক। এ ঘটনায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে বেগম আসমা সিদ্দিকীর করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলায় আশিককে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে আশিকের বিরুদ্ধে ওঠা অনেক অভিযোগ সামনে চলে আসছে।  

জানা গেছে, গত বছরের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শিবলী ইসলামের গাড়ি তাঁর ড্রাইভারের কাছ থেকে ছিনতাই করেন আশিক। তিনি ওই গাড়িতে তাঁর সহপাঠী তুষারকে তুলে নিয়ে মারধর করেন এবং মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গত ১৩ এপ্রিল আশিকের সহপাঠীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগের প্রধান, আইন অনুষদের ডিন এবং ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর ১০টি অভিযোগ দেন। এ অভিযোগে তাঁকে তলব করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নুর ও তাঁর স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. সাবিনা ইয়াসমিনকে তিনি হুমকি দেন ও হেনস্তা করেন।

গত ১ জুন আশিকের সহপাঠী সাদিয়া ইসলাম, সুমাইয়া বিনতে হাই, মোসা. জান্নাতুন নাঈম মিতু, মো. মেহেদি হাসান, মো. ইমরান হোসেন, মো. আক্তার হোসাইন, মো. আব্দুল আলিম ও আবু ইউসুফ রাজশাহীর মতিহার থানায় আশিকের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর বিভাগের শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজ ‘আশিকনামায়’ আক্রমণাত্মক, হীনকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নুর বলেন, ‘আইন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে ফোন দিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু লিখতে বারণ করি। কিন্তু সে আমার কথাটাকে অন্যভাবে নেয় এবং ফোনে আমাকে বারবার হুমকি দিতে থাকে। ’ তারেক নুর জানান, পরে বিভাগের এক শিক্ষকের মাধ্যমে আশিক তাঁর কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পরের দিনই আবার তাঁর বাসায় গিয়ে আশিক তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেয় ও হেনস্তা করে। এক পর্যায়ে সে ফেসবুক লাইভে তাঁকে মারধর করার অভিযোগ তোলে।

এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো অ্যাকশন (পদক্ষেপ) নিইনি। কারণ, আমরা ভেবেছিলাম সে হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ। আমরা চাচ্ছিলাম তাকে চিকিৎসা করানো হোক। পরে ওর বাবা ও মাকে ডেকে তাঁদের কাছ থেকে লিখিত নিলাম। ’

 



সাতদিনের সেরা