kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

আশ্রয়ণের ১৩৮ ঘরের ১২০টিতে তালা

বগুড়ায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রয়েছে বাড়ি ও জমি

জে এম রউফ, বগুড়া   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশ্রয়ণের ১৩৮ ঘরের ১২০টিতে তালা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের শাহজালাল বাজারসংলগ্ন দক্ষিণ টেংরাকুড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলোতে কেউ বসবাস না করায় তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই দফায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণের ১৩৮টি ঘরের প্রায় ১২০টিতে তালা দেখা গেছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার টেংড়াকুড়ায় গত বুধবার ঘুরে এই দৃশ্য দেখেছেন এই প্রতিবেদক।

সারিয়াকান্দির জামথল ঘাটে যেতে দেড় ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। ঘাটটি জামালপুরের সীমানা লাগোয়া।

বিজ্ঞাপন

সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার পাড়ি দিলে পাওয়া যাবে শাহজালাল বাজার। এই বাজারের পাশে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয় প্রায় আট বছর আগে। ‘দক্ষিণ টেংড়াকুড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে’ ১১টি ব্লকে গড়ে তোলা হয় ১১০টি আবাসন। সম্প্রতি আবার ওই প্রকল্পের জায়গাতে আরো ২৮টি আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে। মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীনদের জন্য সরকার গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এগুলো নির্মাণ করে উপজেলা প্রশাসন। সেসবও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নামে। টেংড়াকুড়া আবাসনে এ পর্যন্ত নির্মিত ১৩৮টি গৃহ যাদের নামে বরাদ্দ তাদের মধ্যে দুই-তিনজন ছাড়া কেউ থাকে না সেখানে। ফলে সেখানকার বেশির ভাগ ঘর থাকছে তালাবদ্ধ। কিছু ঘর আবার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বসবাস করছে প্রকৃতপক্ষে যাদের থাকার মতো কোনো বাসস্থান নেই সেসব দরিদ্র মানুষ।

আবাসন প্রকল্পের ভেতর ঢুকে দেখা যায়, এক নারী পাট শুকানোর কাজে ব্যস্ত। আগন্তুক দেখে এগিয়ে আসেন তিনি। জোসনা বেগম নামের ওই নারী আছেন আট বছর আগে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। তার পাশে পর পর তিনটি ঘরে থাকেন তাঁর তিন ছেলে। তার পাশে আর একটি ঘরে থাকেন তাঁর বিধবা মা শায়লা বেওয়া (৭০)। তিনি জানান, তাঁর মায়ের নামে একটি ঘর বরাদ্দ হলেও তিনি ও তাঁর তিন ছেলে যেসব ঘরে আছেন সেসব তাঁদের নয়। কাদের ঘরে আছেন তাঁরা? জানতে চাইলে জোসনা বেগম বলেন, ‘শুনছি, এই ঘরগুলো আনন্দ বাজারের কাছের বাসিন্দা ফেজু মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে দেওয়া হয়। ’ তাঁরা কেউ বাড়ি ছেড়ে এখানে আসেন না। ফাঁকা পড়ে ছিল ঘরগুলো। তাই গৃহহীন হওয়ায় তিন ছেলেসহ সেখানে উঠেছেন তিনি।

জোসনা বেগমের সঙ্গে কথা বলার সময় হাজির হন বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দক্ষিণ টেংরাকুড়া গ্রামের বদি খান ও জামথল গ্রামের বাবু প্রামাণিক জানান, আবাসন প্রকল্পের ১১০ ঘরে তো লোক থাকেই না, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নতুন করে নির্মিত আরো ২৮টি ঘরেও থাকে না বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা। বদি খান বলেন, ‘সব ঘরই পাইছেগা বাড়িঘর আলারা। যাগে প্রাপ্য তারা ঘর পাইনাইক্যা। অ্যাহন যারা ঘরগুলানোত থাহছে তাগোরে ঘর দেওন লাগতো, তাহলেসিন ঘর করাডা কাজোত লাগতো। ’

এরই মধ্যে সেখানে হাজির হন কাজলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবু খান। তিনি ওই প্রকল্পেরই একটি ঘর বরাদ্দ নিয়ে বাস করেন। তিনি জানান, দুই দফায় নির্মিত এই আবাসন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে।

কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন এবং আবাসন প্রকল্পের ঘরে তিন থেকে চারজন বাস করে। অন্য যারা বাস করছে তাদের নামে বরাদ্দ নেই, অথচ তারাই প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন। ’

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আবাসন প্রকল্প এবং মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণ এবং বরাদ্দ হয়েছে আমার যোগদানের আগে। ওই আবাসনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনেছি। এখন প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা করে যারা ঘরগুলোতে থাকছে না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এরপর যারা প্রকৃত ভূমিহীন তাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা