kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

বন্যা, প্রেস কাউন্সিল আইন ও বিদেশে পাচার টাকা নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলমান বন্যায় বিশাল মানবিক বিপর্যয়, ‘প্রেস কাউন্সিল আইন-২০২২’-এর খসড়া তৈরি এবং বিনা শর্তে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে আনার সুযোগ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সদস্যদের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে সভায় দুর্যোগ মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এসে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

এ ভার্চুয়াল সভায় টিআইবির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৭ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদে সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী।

সভা শেষে এক ঘোষণাপত্রে উপস্থিত সদস্যরা চলমান বন্যায় বিশাল মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সরকার প্রত্যাশিত পর্যায়ের প্রস্তুতি ও সাফল্য দেখাতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইনের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২২’-এর খসড়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তথা সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতাচর্চার ক্ষেত্রে দেশে অভূতপূর্ব উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, এ আইনের খসড়ায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ইত্যাদি ক্ষুণ্ন বা ভঙ্গের দায়ে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা পালন না করে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আরো সংকুচিত করার ভূমিকায় প্রেস কাউন্সিল তৎপর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফর্মসের খসড়া সম্পর্কে বলা হয়, এর কয়েকটি ধারা সংবিধান পরিপন্থী। এতে আইনের কয়েকটি ধারা ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ থাকায় জনগণের কণ্ঠরোধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া খসড়া ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২২’ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যা ব্যক্তি-তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার নামে ব্যক্তির নিরাপত্তা ও স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সর্বোপরি প্রস্তাবিত ‘গণমাধ্যম (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০২১’-এ গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষা, সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রক্রিয়াগুলো স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।



সাতদিনের সেরা