kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

১৩ ঘণ্টায় বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে

যোগাযোগব্যবস্থায় পদ্মা সেতুর প্রভাব

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মা সেতু হয়ে যশোরের বেনাপোল থেকে একজন ট্রাকচালক টানা গাড়ি চালিয়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। এক সপ্তাহ আগেও এই পথে আসতে সময় লাগত কমপক্ষে ২০ ঘণ্টা। আর ফেরি পারাপারসহ যানজটের কারণে কখনো সময় লেগে যেত দু-তিন দিন। পদ্মা সেতু চালুর পর বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামের সড়ক দূরত্ব কমেছে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

এতে গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় হওয়ার কথা প্রায় দুই হাজার টাকার। এ ছাড়া পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও সহকারীরা পাচ্ছেন বিশ্রামের সুযোগ।

গত শনিবার পদ্মা সেতু চালুর পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ও যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছেন, এমন কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী ও মাদারবাড়ী এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবহন অফিস এবং পরিবহনের ব্রোকার্স শেডে একাধিক চালক-সহকারীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, পদ্মা সেতুর সুবিধা নিচ্ছেন চট্টগ্রামের পরিবহন শ্রমিকরা, বিশেষ করে পণ্যবাহী পরিবহনের শ্রমিকরা। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি মালিকপক্ষও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সেতু চালুর পরের দিন থেকে এটি ব্যবহার করলেও এখনো চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসগুলো সেতু ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মাদারবাড়ী লেভেলক্রসিংসংলগ্ন ব্রোকার্স শেডে কথা হয় শেখ আসাদুর রহমান নামের একজন ট্রাকচালকের সঙ্গে। তিনি সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ভোমরা বন্দর থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে টানা গাড়ি চালিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় চট্টগ্রামের গন্তব্যে আসেন। তাঁর সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। আসাদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। ফেরির ভোগান্তি কমেছে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হয়েছে। ’

তাঁর মতো বেশ খুশি চালক মোহাম্মদ বশির ও মোহাম্মদ আলীও। বশির জানান, পদ্মা সেতু হওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা লাভবান হয়েছেন। অনেক সময় সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি জানান, আগে চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল বা বেনাপোল থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া-আসায় জ্বলানি খরচ হতো ২৭০ লিটার। সেতু ব্যবহারের কারণে খরচ হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ লিটার।

ট্রাকচালক মোহাম্মদ আলী প্রায় ২৩ বছর ধরে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে আসছেন। তিনি জানান, সেতু হওয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের সুবিধা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সঙ্গে খুলনা, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, কুয়াকাটা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গে ইউনিক পরিবহন ও সৌদিয়া পরিবহনের বাস চালু রয়েছে। এসব যাত্রীবাহী বাসের মালিকরা এখনো পদ্মা সেতু ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেননি।

 

 



সাতদিনের সেরা