kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

হাসপাতালে পড়ে আছেন এক মা

সারাক্ষণ শুধু ‘বাবা’ ডাক

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হাসপাতালে পড়ে আছেন এক মা

ছলছল চোখের দিকে তাকালেই যেন মনে হয় স্বজনকে ফিরে পাওয়ার আকুতি সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছলছল চোখের দিকে তাকালেই যেন মনে হয় স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার। কিছু জিজ্ঞাসা করলেই শুধু একটি শব্দই অনবরত উচ্চারিত হয় ‘বাবা’। সন্তানের জন্য যে মায়ের এই আহাজারি, তিনি পড়ে রয়েছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিছুদিন রাস্তায় এবং পরে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করে কাটালেও খোঁজ নেই তাঁর সন্তানের।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি (জুন) মাসের শুরুর দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কিশামত মালতিবাড়ী এলাকায় পড়ে ছিলেন অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধা। পরনে ছিল লাল রঙের পেটিকোট ও কাপড়। প্রথমে স্থানীয়রা তাঁকে পাগল ভেবে ছুঁয়েও দেখেনি। কয়েক দিন অনাহারে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থেকে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকজন মৃত ভেবে খবর দেয় পুলিশকে। গত ৬ জুন সন্ধ্যায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

পরে হাসপাতালের নার্সসহ সবার চেষ্টায় অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটা-চলা করতে পারেন না ওই বৃদ্ধা।

হাসপাতালে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিদা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস ও মাহাবুবা বেগম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর সন্তানরা এখানে তাঁকে ফেলে রেখে যায়। আধমরা অবস্থায় আমাদের এখানে ভর্তি করানো হয়। রাত হলে কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তিনি। তবে তাঁকে আদর করে মা বলে ডাকলে শান্ত হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, তিনি অনেকটা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। তবে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং অথবা পরিবারের লোকজনকে কাছে পেলে পুরোপুরি সুস্থ হবেন বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির বলেন, ‘আমরা তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। ’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘বিশেষ আদালত কর্তৃক তাঁকে নিরাশ্রয় হিসেবে ঘোষণা করলে আমরা তাঁর আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারব। ’

 



সাতদিনের সেরা